গ্রাম বাংলাদেশবাংলা

মারধর ও বিষপ্রয়োগের অভিযোগে বৃদ্ধার মৃত্যু

সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় এক ব্যক্তিকে মারধর করে জোরপূর্বক বিষাক্ত পদার্থ খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে চরভদ্রাসন থানায় একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।

থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ আগস্ট রাতের দিকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে মারধর করা হয় এবং জোর করে বিষাক্ত পদার্থ খাওয়ানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চর হাজীগঞ্জ বাজারের একটি ফার্মেসিতে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (৩ আগস্ট) ভোর ৩টা ৪০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে নিহত ইউসুফ আলী একটি ভিডিও বক্তব্য দিয়ে যান। ওই ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, ১ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টা ৫৫ মিনিটে জুলহাস জানান, শামীম ডাকছেন। পরিচিত হওয়ায় তিনি চর হাজীগঞ্জ বাজারে বশির মেম্বারের বাড়ির সংলগ্ন পদ্মা নদীর তীরে বালুর স্তুপের পাশে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর শামীম তাকে বলেন, সেই ঘটনা তুই প্রকাশ করলি কেন?”—এ কথা বলেই তাকে মারধর শুরু করা হয়। এরপর সেখানে উপস্থিত আরও পাঁচ-ছয়জন তাকে বেধড়ক মারধর করে এবং জোরপূর্বক ঘাস মারা ওষুধ খাইয়ে দেয় বলে ভিডিও বক্তব্যে অভিযোগ করেন তিনি।

ভিডিওতে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তদের কাছ থেকে কোনোভাবে ছুটে এসে রাস্তার ধারে পৌঁছালে ইউনুস খালাশির ছেলে তাকে উদ্ধার করে চর হাজীগঞ্জ বাজারে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে ইয়াসমিন ও শামীমের মা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

নিহতের স্ত্রী মামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে চরভদ্রাসন থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button