বাংলাদেশ

গাইবান্ধায় গণঅভ্যুত্থানের নেপথ্যে: জামিরুলের সংগ্রামের গল্প

গাইবান্ধা প্রতিনিধি (ডিজিটাল): ‎২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল সময় দেশের অন্যান্য জেলার মতো গাইবান্ধাও ছিল ছাত্র-জনতার আন্দোলনের অন্যতম সক্রিয় কেন্দ্র। উত্তপ্ত রাজপথ, থমথমে পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি এবং আন্দোলনকারীদের প্রতিরোধ সব মিলিয়ে জেলাজুড়ে বিরাজ করছিল টানটান উত্তেজনা। সেই আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় উঠে আসে যুবক আন্দোলনকারী জামিরুল ইসলাম খন্দকারের নাম।
‎
‎সহযোদ্ধাদের দাবি, আন্দোলনের সূচনালগ্নে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামিরুল ইসলাম খন্দকারের দেওয়া একটি ভিডিও বার্তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিও অনেক আন্দোলনকারীর মধ্যে সাহস ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে এবং আন্দোলনে নতুন গতি আনতে ভূমিকা রাখে।
‎
‎১৮ জুলাই পুলিশের দায়ের করা একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে তিনি আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন। তবে আত্মগোপনে থেকেও আন্দোলনের সমন্বয়, যোগাযোগ ও বিভিন্ন কর্মসূচির পরিকল্পনায় সক্রিয় ছিলেন বলে দাবি করেন তার সহযোদ্ধারা।
‎
‎১৯ জুলাই প্রকাশিত আরেকটি ভিডিও বার্তায় তিনি ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সর্বস্তরের মানুষকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। আন্দোলনকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবির নজরদারি এবং ধরপাকড়ের মধ্যেও তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে আন্দোলনের কার্যক্রম পরিচালনা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখেন।
‎
‎এরপর আসে ৪ আগস্ট। সেদিন জেলা শহরের ব্রিজ রোড এলাকা থেকে জামিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি লাঠি মিছিল বের হয়। মিছিলটি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
‎
‎আন্দোলনকারীদের দাবি, এ সময় পুলিশের গুলিতে গোলাপ, শামিউল, আমিনুল, সঞ্জুসহ অন্তত আটজন আহত হন। তবে ওই ঘটনার পরও আন্দোলন থেমে যায়নি; বরং আরও বিস্তৃত হয়ে চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়।
‎
‎জামিরুল ইসলাম খন্দকার বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশনা ও আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা ছাত্র-জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। তার ভাষ্য, গণঅভ্যুত্থানের সফলতা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক অর্জন নয়; বরং এটি ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত ত্যাগ, সাহস ও সংগ্রামের ফল।
‎
‎তার সহযোদ্ধারাও দাবি করেন, আন্দোলনের বিভিন্ন ধাপে পরিকল্পনা, যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে জামিরুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন বলেও তারা জানান।
‎
‎গণঅভ্যুত্থানের সেই দিনগুলোর স্মৃতি এখনও গাইবান্ধার অনেক আন্দোলনকারীর মনে অমলিন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া এই যুবকের প্রত্যাশা, অতীতের সেই আত্মত্যাগ ও ঐক্যের চেতনা ধারণ করে ভবিষ্যতে একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button