জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে পররাষ্ট্রনীতি এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান

বাংলা টিভি ডেস্ক: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে দেশের পররাষ্ট্রনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ এবং দেশকে কখনোই ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’-এ পরিণত হতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের আত্মত্যাগ জাতির জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আহতদের প্রতিও তিনি গভীর সমবেদনা জানান।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট এবং সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়ন ছিল স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সবচেয়ে নৃশংস অধ্যায়গুলোর একটি। সে সময় বিদেশে অবস্থান করে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের কার্যালয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরেছিলেন।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে তার সামনে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল—প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সরকারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক উত্তরণ সম্পন্ন করা। এসব লক্ষ্য সফলভাবে অর্জিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকরাও নির্বাচনকে উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। নির্বাচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আবারও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইতিবাচকভাবে ফিরে আসছে।
ড. খলিলুর রহমান আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা জটিল হয়ে উঠেছে এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাও নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এ বাস্তবতায় দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা পরিচালনা করতে হবে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বাংলাদেশের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রথম বড় পরীক্ষায় সফলতার প্রমাণ। এ সাফল্যের পেছনে দেশের সব কূটনৈতিক মিশন ও কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসাও করেন তিনি।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশকে ভালোবাসা, নিষ্ঠা, মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে এগিয়ে নেওয়াই সবার দায়িত্ব। বিশেষ করে পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তাদের প্রতি তিনি দেশের স্বার্থ রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মু. নজরুল ইসলাম ও ফরেন সার্ভিস একাডেমির সেক্টর রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



