আমরা যেন জুলাইয়ের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করতে পারি: রাষ্ট্রপতি

বাংলা টিভি ডেস্ক: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, আমরা যেন জুলাইকে হারিয়ে না ফেলি। জুলাইয়ের চেতনা যেন আমাদের হৃদয়ে ধারণ করতে পারি। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ দিতে পারি—এটাই হোক আমাদের আজকের অঙ্গীকার।
বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে আয়োজিত রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সচিব ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে অসংখ্য মানুষ অক্লান্ত সংগ্রাম করেছেন। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। সেই আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় স্বৈরশাসনের অবসান ঘটেছে। এটি জাতির ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়, যা বাংলাদেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে গর্বের সঙ্গে স্মরণ করবে।
বক্তব্যে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, আজ দুপুরে একটি অনুষ্ঠানে তিনি এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছেন। এক মা তার অন্ধ ছেলেকে হাত ধরে মঞ্চে নিয়ে এসেছেন। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ওই তরুণ তার দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। মা সবার সামনে তাদের দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অভিযোগ ও বেদনার কথা তুলে ধরেছেন।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাইয়ে যারা জীবন দিয়েছেন কিংবা অঙ্গহানির শিকার হয়েছেন, তাদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জাতীয় সংসদ ও বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এটি কোনো স্বল্পমেয়াদি দায়িত্ব নয়; বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় অঙ্গীকার।
ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর যেমন গৌরব ও বিজয়ের দিন, তেমনি ৫ আগস্টও গৌরব ও বিজয়ের দিন হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে।
তার ভাষ্য, ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয়েছে বিদেশি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে, আর ৫ আগস্ট অর্জিত হয়েছে দেশীয় ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরাভূত করার মাধ্যমে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রকৃত সংস্কার মানুষের মনোজগতে হতে হবে। মনোজগতের পরিবর্তন না হলে শুধু আইন বা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার ও মেরামতের সূচনা হতে হবে সংবিধান থেকে, যা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সব হুইপ, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।



