বাস থামিয়ে ৫৭ লাখ টাকা লুট, মূল পরিকল্পনাকারী এক নারী

বাংলা টিভি ডেস্ক: কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে বিকাশের ৫৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় এক নারীকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, কয়েক দিন ধরে বিকাশের টেকনাফ এজেন্সির সেলসম্যানদের গতিবিধি নজরে রাখছিলেন ওই নারী।
পুলিশের ধারণা, ঘটনার দিন ব্যাংক থেকে টাকা তোলার পর বিকাশের কর্মীদের অনুসরণ করে ডাকাত দলের সদস্যদের কাছে তাদের অবস্থান ও চলাচলের তথ্য পৌঁছে দেন তিনি। ওই তথ্যের ভিত্তিতেই ডাকাতরা বাসটির গতিরোধ করে টাকা লুট করে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পাশাপাশি লুট হওয়া টাকার মধ্যে ২ লাখ ২৬ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা, আদালত সূত্র, স্থানীয় বাসিন্দা এবং ডাকাতির শিকার বিকাশ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, সন্দেহভাজন ওই নারী টেকনাফের লেদা এলাকায় সক্রিয় একটি সশস্ত্র ডাকাত দলের নেতৃত্ব দেন। তার ভাইকে সামনে রেখে কয়েকজন রোহিঙ্গা যুবককে নিয়ে দলটি গড়ে তোলা হয়েছে বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। চক্রটির বিরুদ্ধে অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২ আগস্ট বিকাশের সেলসম্যানরা যে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেছিলেন, সেখানে ওই নারীও উপস্থিত ছিলেন। টাকা উত্তোলনের পর তিনি অটোরিকশায় করে বিকাশকর্মীদের বহনকারী বাসটি অনুসরণ করেন।
পরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পাহাড়ে অবস্থানরত ডাকাত দলের সদস্যদের কাছে বাসটির গতিপথ ও সেলসম্যানদের অবস্থান জানিয়ে দেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। ওই তথ্য পাওয়ার পরই ডাকাতরা বাসটির গতিরোধ করে লুটপাট চালায়।
রোববার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় কক্সবাজার আদালত পুলিশের পরিদর্শক গোলাম জিলানী জানান, মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচজনকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের মধ্যে আয়াজ নামের এক রোহিঙ্গা এবং লেদা এলাকার হোসেন আলী টেকনাফের বিচারিক হাকিম নাজমুল হাসানের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গ্রেপ্তার অন্যদের মধ্যে লেদা এলাকার আকতার হোসেন ও নজরুল ইসলামের নাম জানা গেছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া আরেক নারীই কথিত মূল পরিকল্পনাকারী কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পুলিশ বলছে, ডাকাত দলের প্রায় সব সদস্যকেই শনাক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে পরিকল্পনাকারী নারীকে ঘিরে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক সদস্য জানান, লুটের টাকার একটি অংশ ব্যবহার করে ওই নারীর বন্ধক রাখা স্বর্ণালংকার ছাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। ডাকাতির পর টাকা ভাগাভাগি হওয়ার আগেই একটি স্বর্ণের দোকানে বকেয়া ও সুদের টাকা পরিশোধ করে স্বর্ণ ফেরত নেওয়া হয়।
গত ২ আগস্ট টেকনাফ স্থলবন্দরের উত্তর পাশে ১৪ নম্বর ব্রিজ এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসের গতিরোধ করে সশস্ত্র ডাকাতরা। এ সময় বিকাশের দুই সেলসম্যানের কাছ থেকে ৫৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ডাকাতরা গুলি ছুড়ে ও হামলা চালিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, টাকা ডাকাতির ঘটনায় তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে। তবে মামলার স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে কিছু টাকা উদ্ধারসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। ডাকাত দলের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া টাকা উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



