মেয়ে থেকে ছেলে হওয়া সেই এসএসসি পরীক্ষার্থী পেল ‘এ’ গ্রেড

বাংলা টিভি ডেস্ক: গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের কামরাঙ্গীচালা এলাকায় শারীরিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নতুন পরিচয়ে পরিচিত হওয়া এসএসসি পরীক্ষার্থী আব্দুর রহমান কাবির দেওয়ান জিপিএ ৪.৫৬ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। জন্মের পর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নথিপত্রে তার নাম ছিল কেয়া আক্তার। বর্তমানে পরিবারের সিদ্ধান্তে তার নাম রাখা হয়েছে আব্দুর রহমান কাবির দেওয়ান।
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় কালিয়াকৈরের ধানসিঁড়ি পাবলিক স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় কাবির। সোমবার (১০ আগস্ট) ফল প্রকাশের পর জানা যায়, সে এ গ্রেডে জিপিএ ৪.৫৬ অর্জন করেছে।
কাবিরের শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তাকে দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ তার বাড়িতে আসছেন। সোমবার ফল প্রকাশের পর এই ভিড় আরও বেড়ে যায়। গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও দিনভর বাড়িতে ভিড় করছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরিবারের সদস্যদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এমনকি বাড়ির গেট বন্ধ রাখার পরও আগ্রহী মানুষের আনাগোনা পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাবির টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বেলতলা এলাকার কাইয়ুম দেওয়ান ও কণিকা ইসলামের সন্তান। বর্তমানে তারা পরিবারসহ কালিয়াকৈরের মৌচাকের কামরাঙ্গীচালা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।
কাবিরের মা কণিকা ইসলাম জানান, ২০২৫ সালের শেষ দিকে তার সন্তানের শরীরে ধীরে ধীরে বিভিন্ন পরিবর্তন লক্ষ্য করতে শুরু করেন তারা। শুরুতে বিষয়টি পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে কণ্ঠস্বর ও শারীরিক গঠনে পরিবর্তনসহ আরও কিছু বিষয় পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। আশপাশের লোকজনও বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু করেন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়।
কাবির দেওয়ান জানায়, তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। এসএসসির ফলাফল নিয়েও সে সন্তুষ্ট। ভবিষ্যতে ভালো একটি চাকরি করে পরিবার ও দেশের জন্য কাজ করতে চায় সে।
ধানসিঁড়ি পাবলিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন আগে তারা কাবিরের শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়টি জানতে পারেন। তবে এতদিন সে কেয়া আক্তার নামেই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছে। বর্তমানে তার নাম কাবির দেওয়ান। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সে এ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে।
এলাকায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হলেও পরিবারের সদস্যরা এখন মানুষের আগ্রহের চেয়ে কাবিরের পড়াশোনা, ভবিষ্যৎ এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।



