বাংলাদেশ

১২ শিক্ষক মিলে পাশ করাতে পারেননি এক শিক্ষার্থীকে

বাংলা টিভি ডেস্ক: কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার দাসনাইপাড়া ইসলামিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় ১২ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। মাদ্রাসা থেকে একজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল, কিন্তু সেও অকৃতকার্য হয়েছে। ফল প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

উপজেলার রায়কোট উত্তর ইউনিয়নের দাসনাইপাড়া ইসলামিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার জন্য দুজন শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র একজন। সোমবার (১০ আগস্ট) মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ওই শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি।

ফলাফল প্রকাশের পর মাদ্রাসাটির শিক্ষা কার্যক্রম ও পাঠদানের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। তাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষক থাকার পরও একমাত্র পরীক্ষার্থীকে পাস করাতে না পারার বিষয়টি অত্যন্ত হতাশাজনক। তারা মাদ্রাসাটির সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম তদন্তের পাশাপাশি পাঠদানের মান বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. একরামুল হক বলেন, চলতি বছর দাখিল পরীক্ষার জন্য দুজন শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করা হয়েছিল। তবে তাদের মধ্যে একজন পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফলাফলে দেখা গেছে, ওই পরীক্ষার্থীও অকৃতকার্য হয়েছে।

নাঙ্গলকোট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, দাসনাইপাড়া ইসলামিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। মাদ্রাসার শিক্ষকদের বিষয়ে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, একই উপজেলার শ্যামপুর এখলাছিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।

এদিকে ফল প্রকাশের পর স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—একাধিক শিক্ষক কর্মরত থাকার পরও একজন পরীক্ষার্থীকে কেন কাঙ্ক্ষিত ফল এনে দেওয়া সম্ভব হলো না। বিষয়টি যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে শিক্ষার পরিবেশ ও পাঠদানের মান উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button