নেত্রকোনায় গোরস্থানের আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১২০

বাংলা টিভি ডেস্ক: নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পুরোনো একটি গোরস্থানের দখল ও সেখানে দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১২০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে রংছাতি ইউনিয়নের আমগড়া, পুলিয়া ও পানেশ্বর পাড়ায় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। এ সময় অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আমগড়া এবং পুলিয়া-পানেশ্বর পাড়ার মাঝামাঝি প্রায় ১৮ কাঠা বা ১৪৪ শতাংশ জায়গাজুড়ে একটি পুরোনো গোরস্থান রয়েছে। এই জায়গার মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
আমগড়া গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা গোরস্থানের পাশের রাস্তার ধারে দোকান নির্মাণ করে বাজার গড়ে তোলার উদ্যোগ নিলে পানেশ্বর পাড়ার লোকজন এতে বাধা দেন। তাদের দাবি, জায়গাটি ওয়াকফ সম্পত্তি এবং এটি শুধু কবরস্থান হিসেবে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত।
বিরোধ মেটাতে প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক হয়। তবে সেখানে চূড়ান্ত সমাধান না হওয়ায় বিরোধ থেকেই যায়। শুক্রবার সকালে গোরস্থানে ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হলে সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তা চলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় পুলিয়া ও পানেশ্বর পাড়ার ৫০ থেকে ৬০টি বাড়িঘর ও দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। একটি বিয়ের বাড়ির গেট ও গরুর খামারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দাদের দাবি, হামলার সময় প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে।
সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১২০ জন আহত হন। এর মধ্যে আমগড়া, নল্লাপাড়া ও হাসনাগাঁও গ্রামের ৫৪ জনের আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আহতদের কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন।
পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল ওয়াহাব ও হোসেন মিয়া দাবি করেন, প্রায় ৮০ থেকে ৯০ বছর ধরে তাদের পূর্বপুরুষেরা গোরস্থানটি দেখাশোনা করে আসছেন। সম্প্রতি সেখানে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয়ে মাটি কাটার কাজ হয়েছে। এ ছাড়া দেয়াল ও পিলার নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ১ লাখ ১৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন বলেও তারা জানান। তাদের দাবি, গোরস্থানের দলিল তাদের পক্ষেই রয়েছে এবং প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টির স্থায়ী সমাধান করা হোক।
অন্যদিকে আমগড়া গ্রামের কামাল পাশা গোরস্থানে দোকান নির্মাণের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, দোকান নির্মাণ নয়, মূলত গোরস্থানের আধিপত্য নিয়ে বিরোধ থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। সালিশের পর পানেশ্বর পাড়ার লোকজন সেখানে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষ শুরু হয় বলে দাবি করেন তিনি।
রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত গোরস্থানের সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব ইউনিয়ন পরিষদের ওপর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুই পক্ষকেই শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
কলমাকান্দা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



