বাংলাদেশ

‎বহির্নোঙরে পরপর তিন ঘটনা, দুই দিনে দুই সংঘর্ষ; নিখোঁজ নাবিক উদ্ধারে নৌবাহিনী

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি( ডিজিটাল): ‎চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে পরপর তিনটি নৌ-দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দুইটি ঘটনায় জাহাজের সঙ্গে জাহাজের সংঘর্ষ হয়েছে, আর অন্য ঘটনায় কার্গো জাহাজ থেকে পড়ে এক নাবিক নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজ নাবিককে উদ্ধারে নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ ও সোয়াডসের একটি বোট অভিযানে যোগ দিয়েছে।
‎
‎সর্বশেষ শনিবার (১৫ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বন্দরের আলফা অ্যাংকরে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ‘এমভি আনাসা’ ও বাংলাদেশের পতাকাবাহী ‘এমভি জাহাব জাহান’-এর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর দুই জাহাজ নিরাপদ দূরত্বে সরে গিয়ে নোঙর করে।
‎
‎বন্দর সূত্রে জানা গেছে, আলফা অ্যাংকরে নোঙর করে থাকা এমভি জাহাব জাহানকে সামনের অংশ দিয়ে আঘাত করে এমভি আনাসা। ওই সময় আনাসা স্থানীয় নেভিগেশন ও পাইলটেজ সহায়তা নিয়ে চলাচল করছিল। তবে সংঘর্ষে কোনো হতাহত, জাহাজে পানি প্রবেশ কিংবা পরিবেশ দূষণের ঘটনা ঘটেনি।
‎
‎চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এমভি আনাসা গত ১২ আগস্ট ৩৫ হাজার ৩৫০ টন স্ল্যাগ নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আসে। অন্যদিকে, এমভি জাহাব জাহান পণ্য খালাস শেষে আলফা অ্যাংকরে নোঙর করে ছিল। জাহাজটি কেএসআরএম গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসআর শিপিংয়ের মালিকানাধীন। আনাসার স্থানীয় এজেন্ট টগি শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিকস লিমিটেড।
‎
‎সংঘর্ষের পর দুই জাহাজের অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণের কাজ শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলে সহায়তার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের টাগবোট ‘কান্ডারি-৮’ ও ‘বিএলভি লুসাই’ রয়েছে।
‎
‎চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ও মুখপাত্র সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে আলফা অ্যাংকরে দুই জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। নোঙর করে থাকা এমভি জাহাব জাহানের সামনের অংশে এমভি আনাসার সামান্য স্পর্শ লাগে। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
‎
‎তিনি জানান, দুই জাহাজের মোট ২১ জন ক্রু নিরাপদে আছেন। দুর্ঘটনার পর উভয় জাহাজ নিরাপদে আলাদা হয়ে নোঙর করেছে এবং বন্দরের নৌ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
‎
‎আজ রবিবার (১৬ অগাস্ট) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে কার্গো জাহাজ থেকে পড়ে এক নাবিক নিখোঁজ হন। অসাবধানতাবশত জাহাজ থেকে পানিতে পড়ে নিখোঁজ হওয়া ওই নাবিককে উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অভিযানে নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ ও সোয়াডসের একটি বোট যুক্ত হয়েছে।
‎
‎নিখোঁজ নাবিক কোন জাহাজ থেকে পানিতে পড়ে গেছেন এবং তার পরিচয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
‎
‎এর একদিন আগে, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে একই বহির্নোঙরে তেলবাহী ট্যাংকার ‘এমটি সি স্পাইক’ ও বাল্ক ক্যারিয়ার ‘এমভি সান শাইন’-এর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
‎
‎শুক্রবার দুপুর থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পরপর তিনটি নৌ-দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুটি জাহাজ সংঘর্ষ এবং একটি নাবিক নিখোঁজের ঘটনা। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় বন্দরের বহির্নোঙরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা, নেভিগেশন ব্যবস্থা ও পাইলটেজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
‎
‎তবে এসব ঘটনার কারণ, নেভিগেশন প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না এবং সংশ্লিষ্টদের দায় রয়েছে কি না, তা কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
‎নৌবাহিনী থেকে জানানো হয়, বহির্নোঙরে কার্গো জাহাজ থেকে পড়ে নিখোঁজ হওয়া নাবিককে উদ্ধারে তাদের ২টি জাহাজ ও সোয়াডস বোট যোগ দিয়েছে। উদ্ধার চেষ্টা অব্যহত রয়েছে, বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button