প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ঘিরে উত্তেজনা, ববিতে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

বাংলা টিভি ডেস্ক: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) এক ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব, র্যাগিং ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে অর্থনীতি ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনায় দুই বিভাগের অন্তত ২০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত ৯টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও প্রধান গেটের আশপাশে এসব ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীর সংখ্যাই বেশি বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের পর রাতভর ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে এবং রাত দেড়টা পর্যন্ত দুই বিভাগের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে অবস্থান করেন।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মুসা হোসাইন নবীনবরণ অনুষ্ঠানের দিন অর্থনীতি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের এক ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। এ সময় ওই ছাত্রীর মোবাইল ফোন নিয়ে তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে।
পরবর্তীতে ওই ছাত্রী প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে তাকে র্যাগিং ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ ওঠে মুসার বিরুদ্ধে। বিষয়টি অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাঁদের সিনিয়রদের জানালে কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে আসেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে ইংরেজি বিভাগের ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করা হলে তাঁর মুখ থেকে রক্ত পড়তে দেখা যায়। পরে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয় এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাতভর ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ববির অ্যাম্বুলেন্সে করে অর্থনীতি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেট এলাকায় তাঁদের গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল আজিজের দাবি, তাঁদের এক জুনিয়র ছাত্রীকে র্যাগিং ও উত্ত্যক্ত করে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এমনকি তাকে আটকে রাখারও অভিযোগ করেন তিনি। পরে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা ভিসি গেটের বিপরীতে জড়ো হলে একপর্যায়ে হাতাহাতির সূত্রপাত হয়।
অন্যদিকে, ইংরেজি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, ঘটনাটিকে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে। মুসা কোনো অপরাধ করে থাকলে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়ে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল বলেও তারা মন্তব্য করেন।
অভিযুক্ত মুসা হোসাইন আহত হওয়ায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী হাসান সোহাগ জানান, দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের নিবৃত করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংঘর্ষের পর রাতভর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।



