‘প্রাথমিকের নতুন কারিকুলামে ইংরেজিতে স্পিকিং টেস্ট চালুর পরিকল্পনা’

বাংলা টিভি ডেস্ক: প্রাথমিক শিক্ষার নতুন কারিকুলামে ইংরেজি বিষয়ের লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কথা বলার দক্ষতা যাচাইয়ে স্পিকিং টেস্ট চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
রোববার (১৬ আগস্ট) ময়মনসিংহে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মিলনায়তনে ‘প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী কারিকুলামে ইংরেজি শিক্ষার ক্ষেত্রে শুধু লিখিত পরীক্ষার ওপর নির্ভর করা হবে না। শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে ইংরেজিতে কথা বলার সক্ষমতাও মূল্যায়ন করা হবে। এ লক্ষ্যেই স্পিকিং টেস্ট চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে একটি সমন্বিত আইটি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার কাজ চলছে। এর আওতায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা ইউনিক আইডি চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও পরিবেশ উন্নয়নেও পরিবর্তন আনার কথা জানান ববি হাজ্জাজ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্কুল ভবনের বাইরে পৃথক ওয়াশ ব্লক নির্মাণের পরিবর্তে ভবনের ভেতরেই প্রয়োজনীয় ওয়াশ ব্লক স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় দৃশ্যমান ও গুণগত পরিবর্তন আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, নতুন শিক্ষক নীতিমালা, মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, ক্রীড়া এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হলো কোনো শিশুকে শ্রেণিকক্ষের বাইরে না রাখা। এ জন্য প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর মিড-ডে মিলের পাশাপাশি বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, জুতা ও স্কুল ব্যাগ দেওয়ার মতো বিভিন্ন সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে স্থানীয় জনগণের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বিদ্যালয়ের সঙ্গে আরও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষ যখন কোনো প্রতিষ্ঠানকে নিজের মনে করে, তখন সেটির নিরাপত্তা ও উন্নয়নের দায়িত্বও নিজের মতো করে নেয়।
এ ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষার প্রথম ১৮০ দিনের পরিকল্পনা, পাইলটিং ও বাস্তবায়নে অগ্রগতি হয়েছে দাবি করে ববি হাজ্জাজ বলেন, আগামী ছয় মাসের নির্ধারিত লক্ষ্যও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। বিদ্যালয় পর্যায়ে পরিবর্তন কার্যকর করার আগে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সক্ষমতা নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি।



