‘আজই বাসায় ফেরার কথা ছিল বাবুর, কিন্তু খবর এলো মৃত্যুর’

বাংলা টিভি ডেস্ক: ‘আমার ভাই কসমেটিকসের ব্যবসা করত। পণ্য কিনতে প্রায়ই কলকাতায় যেত। এবারও গিয়েছিল। কিন্তু কলকাতার হোটেলে আগুন লেগে সে মারা গেল। আজই তার দেশে ফেরার কথা ছিল। অথচ দুপুরে এলো তার মৃত্যুর খবর।’
কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাভারের আহম্মেদ বাবুর মৃত্যুর খবর পেয়ে এভাবেই শোক প্রকাশ করেন তার বড় ভাই মোহাম্মদ আলী।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে সাভারের আমিনবাজার ইউনিয়নের বেগুনবাড়ি সিকদারপাড়ায় আহম্মেদ বাবুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
আহম্মেদ বাবু ওই এলাকার আদম আলীর ছেলে। তিনি আমিনবাজার বাসস্ট্যান্ডের শাহীন সুপার মার্কেটে ‘কিউট কসমেটিক’ নামে একটি দোকান পরিচালনা করতেন। বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস সংগ্রহ করতে নিয়মিত কলকাতায় যাতায়াত করতেন তিনি।
নিহতের বড় ভাই মোহাম্মদ আলী জানান, সোমবার রাত ১০টার দিকে কলকাতার উদ্দেশে বাংলাদেশ থেকে রওনা হন বাবু। পরদিন সকালে কলকাতায় পৌঁছে পণ্য কেনাকাটা করেন। বুধবার দেশে ফেরার কথা থাকলেও তার আগেই আসে মৃত্যুর সংবাদ।
তিনি বলেন, দুপুরের দিকে কলকাতা থেকে খবর আসে, হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে তার ছোট ভাই মারা গেছেন। এই খবর কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।
চার ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন আহম্মেদ বাবু। তার ১২ বছর বয়সী মেয়ে রোজা এবং ছয় বছর বয়সী ছেলে সোয়াত রয়েছে। বাবাকে হারিয়ে অল্প বয়সেই সন্তান দুটির জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।
প্রতিবেশী হাজী নাজিম উদ্দিন জানান, আহম্মেদ বাবু দীর্ঘদিন ধরে কসমেটিকসের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ব্যবসার প্রয়োজনে প্রায়ই কলকাতায় যেতেন তিনি। কিন্তু এবার যে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি।
বাবুর দোকানের কর্মচারী লাভলু বলেন, দোকানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কসমেটিকস বিক্রি করা হতো। পণ্য সংগ্রহের জন্য তার মালিক নিয়মিত কলকাতায় যেতেন এবং কয়েক দিন পর দেশে ফিরে আসতেন। এভাবে তার মৃত্যু হবে, তা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি।
আহম্মেদ বাবুর আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্য, স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে চলছে শোক ও আহাজারি।



