সারাদেশে শুরু হতে যাচ্ছে বিশেষ অভিযান: র্যাব মহাপরিচালক

বাংলা টিভি ডেস্ক: অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সারাদেশে বিশেষ অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাব মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ। তিনি জানান, অভিযানে তথ্য দিয়ে সহযোগিতাকারীদের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুরস্কার ঘোষণা করেছেন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে র্যাব-৬ খুলনার সদর দপ্তরে সুন্দরবনের জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ ও অস্ত্র উদ্ধার উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন র্যাব মহাপরিচালক।
আহসান হাবীব পলাশ বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় পুলিশসহ সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর যেসব অস্ত্র লুট হয়েছে, সেগুলো উদ্ধারের দায়িত্ব র্যাবকে দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে র্যাবের নেতৃত্বে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
অভিযানের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুরস্কার ঘোষণা করেছেন বলেও জানান তিনি।
অভিযানে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার জন্য গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান র্যাব মহাপরিচালক। তিনি বলেন, তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করবে।
আত্মসমর্পণ করলেন আরও জলদস্যু
র্যাব জানায়, গত সোমবার সুন্দরবনের পাঁচটি জলদস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্য আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই দিন রাতে আরও সাতজন আত্মসমর্পণ করায় মোট আত্মসমর্পণকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯ জনে।
আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন, আফতাব বাহিনীর আটজন এবং মিজান বাহিনীর সাতজন রয়েছেন।
তাদের কাছ থেকে চারটি শটগান, ৪৭টি ওয়ান শুটারগান, চারটি পাইপগান, তিনটি এয়ারগান, একটি পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেল, সাতটি ওয়াকিটকি, ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি ও ১৪টি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
৩১৮ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ, অপরাধে ফিরেছে ৩০
র্যাব মহাপরিচালক জানান, এখন পর্যন্ত সুন্দরবনের মোট ৩১৮ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ জন পরবর্তী সময়ে আবার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে।
তার ভাষ্য, সামাজিক চাপ, রাজনৈতিক কারণ, সচেতনতার অভাব, স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অনীহা এবং হয়রানির আশঙ্কাসহ বিভিন্ন কারণে কেউ কেউ পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তবে ৩১৮ জনের মধ্যে ৩০ জনের ফিরে যাওয়া বড় কোনো বিষয় নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আহসান হাবীব পলাশ বলেন, সুন্দরবনে এখনো চার থেকে পাঁচটি জলদস্যু বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। তাদেরও অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে চেষ্টা চলছে। আত্মসমর্পণকারীদের জন্য নেওয়া পুনর্বাসন কর্মসূচি দেখে অন্যরাও উৎসাহিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আত্মসমর্পণকারীদের হয়রানি না করার নির্দেশ
র্যাব মহাপরিচালক জানান, আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে আগের তুলনায় উন্নত পুনর্বাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে।
একই সঙ্গে আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে অহেতুক মামলা ও হয়রানির অভিযোগও সামনে এসেছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ ছাড়া কাউকে আটক করা কিংবা মামলা দেওয়া উচিত নয়। ভবিষ্যতে আত্মসমর্পণকারীরা যাতে অযথা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক করা হয়েছে।
সুন্দরবনে র্যাব ব্যাটালিয়নের প্রস্তাব
সুন্দরবনের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে সেখানে একটি র্যাব ব্যাটালিয়ন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন র্যাব মহাপরিচালক।
তিনি জানান, বর্তমানে সুন্দরবন এলাকায় কোস্টগার্ডের একটি ক্যাম্প রয়েছে। সুন্দরবনবাসী প্রয়োজন মনে করলে র্যাবের একটি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করতে পারেন।
সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত রাখতে র্যাবের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান মো. আহসান হাবীব পলাশ।



