১১ হাজার ভোল্টের তারে ঝুলছিলেন মিস্ত্রি, এক ঘণ্টা পর লাশ উদ্ধার

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় তিনতলা ভবনে কাজ করার সময় ১১ হাজার ভোল্টের উচ্চচাপ সম্পন্ন বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. সাজিদ (২৪) নামের এক টাইলস মিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর প্রায় এক ঘণ্টা তিনি বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে মৃত অবস্থায় ঝুলছিলেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে তার লাশ উদ্ধার করে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ষোলদাগ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাজিদ ভেড়ামারা উপজেলার পূর্ব চর দামুকদিয়া গ্রামের মো. আব্দুল কালামের ছেলে।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সাজিদ গত ৩ দিন ধরে ষোলদাগ এলাকার সুজন উদ্দিন সজলের নির্মাণাধীন তিনতলা বাড়ির বারান্দায় টাইলস বসানোর কাজ করছিলেন। ভবনের ওই বারান্দা থেকে ১১ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক লাইনের দূরত্ব ছিল মাত্র সাড়ে তিন ফুটের মতো।
কোনো ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা ছাড়াই সাজিদ বাঁশের তৈরি মাচার ওপর দাঁড়িয়ে কাজ করছিলেন। মাচায় দাঁড়ানো অবস্থায় তার থেকে সাজিদের দূরত্ব ছিল মাত্র দেড় ফুট। শুক্রবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে কাজের একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত তিনি ১১ হাজার ভোল্টের তারের সংস্পর্শে এসে আটকা পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। খবর পেয়ে ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঝুলন্ত অবস্থায় সাজিদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
নিহতের চাচা আব্দুল আজিজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাজিদ তিনদিন ধরে এখানে কাজ করছিল। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না দিয়ে এভাবে ঝুঁকির মধ্যে তাকে কাজ করতে দেওয়া মোটেও উচিত হয়নি।
ঘটনার পর বাড়িওয়ালা সুজন উদ্দিন সজলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ওই এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ওজোপাডিকো’র আবাসিক প্রকৌশলী মাসুম পারভেজ জানান, আমাদের বিদ্যুতের লাইন নির্ধারিত নকশা ও ম্যাপ অনুযায়ী স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত জায়গা না ছেড়ে বিদ্যুতের লাইনের একদম কাছে বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ১১ হাজার ভোল্টের উচ্চচাপ লাইনের পাশে কোনো সেফটি গিয়ার ছাড়া কাজ করা একেবারেই অনুচিত ছিল।
ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে গিয়েছি। সাজিদের ঝুলন্ত লাশ ১০ মিনিটের মধ্যে উদ্ধার করেছি।
ভেড়ামারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাইদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের টিম গিয়েছে। ফায়ার সার্ভিস আমাদের লাশ বুঝিয়ে দিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



