‘আওয়ামী লীগ সরকার থাকলে খোকন মামুর এই অবস্থা হতো না’

বাংলা টিভি ডেস্ক: সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগ থেকে অর্থ গণনার সময় ‘খোকন মামু’কে নিয়ে লেখা একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। চিরকুটে লেখা রয়েছে, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার থাকলে খোকন মামুর এই অবস্থা হতো না।’
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে মাজার প্রাঙ্গণে তিনটি ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্সের তালা খুলে চতুর্থবারের মতো গণনা কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় একটি দানবাক্সের ভেতর থেকে চিরকুটটি পাওয়া যায়।
চিরকুটে কোনো লেখকের নাম বা ঠিকানা উল্লেখ করা হয়নি। এতে লেখা রয়েছে, ‘আলম খাঁন মুক্তি, আবুল কাশেম, মিসবা উদ্দিন সিরাজ, আফতাব হোসেন তাদের অন্তরের মায়ার মানুষ খোকন মামু।’ পাশাপাশি চিরকুটে একটি হৃদয়ের ছবি আঁকা হয়েছে এবং শেষ দিকে ‘মামুজী’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে।
তবে ‘খোকন মামু’ নামে কাকে বোঝানো হয়েছে, তাঁর কী ধরনের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে কিংবা চিরকুটটি কে লিখেছেন—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে মাজারের দানবাক্স ও ডেগ থেকে এবার নগদ ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৮ টাকা পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি স্বর্ণ এবং বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও উদ্ধার হয়েছে।
বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যের ৫ পাউন্ড, ভারতের ৩ হাজার ৯৯৪ রুপি, থাইল্যান্ডের ৫ বাত, সৌদি আরবের ৯৯ রিয়াল ২৫ পয়সা, মালয়েশিয়ার ২৯ রিঙ্গিত, যুক্তরাষ্ট্রের ৮ ডলার ২ সেন্ট, ওমানের ৯০৩ বায়সা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৭ দিরহাম ২৫ সেন, ইরাকের ১ দিনার, কাতারের ২১ রিয়াল ৫০ পয়সা, ইউরোপের ৩০ ইউরো ১০ সেন্ট, বাহরাইনের ০.০২৫ পয়সা, পাপুয়া নিউগিনির ৫০ কিনা, চীনের ১৫ ইউয়ান এবং ইন্দোনেশিয়ার ৫ হাজার রুপিয়া।
গণনা কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ জেলা প্রশাসন ও সিসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ সময় গণমাধ্যমকর্মী, মাজার কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরাও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
এর আগে ১৫ আগস্ট সর্বশেষ মাজারের দানবাক্স ও মানতের বাক্স খোলা হয়েছিল। তখন পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। এর আগে ১১ জুলাই পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। ২২ জুন দানবাক্স খুলে পাওয়া গিয়েছিল ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা যোগ হওয়ায় ওই দফায় মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।
প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে আসেন। তাঁদের অনেকে দানবাক্সে নগদ অর্থের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণসহ বিভিন্ন সামগ্রী দান করেন। নির্দিষ্ট সময় পরপর এসব দানবাক্স ও ডেগ খুলে হিসাব করা হয়।
তবে এবারের গণনায় পাওয়া ‘খোকন মামু’কে নিয়ে লেখা চিরকুটটির লেখক এবং এর পেছনের ঘটনা এখনো স্পষ্ট নয়।



