চাকরির বদলে ১ কোটি মানুষের হাতে চাঁদাবাজির চাবি: ডা. শফিকুর রহমান

বগুড়া প্রতিনিধি( ডিজিটাল): সরকার এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিলেও চাকরির পরিবর্তে তাদের হাতে চাঁদাবাজির সুযোগ তুলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে বগুড়া শহরের মাটিডালি বিমান মোড়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে সারের দাম বাড়ানো হয়েছে এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটও তীব্র হয়েছে। তাঁর দাবি, বিদ্যুৎ ঘাটতি না থাকার কথা বলা হলেও বাস্তবে মানুষ বিদ্যুৎ সমস্যায় ভুগছে। এ ধরনের বক্তব্যকে তিনি অবাস্তব ও লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন।
জুলাই আন্দোলনের সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং ১১ দলীয় ঐক্যের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াত আমির। তাঁর বক্তব্য, এসব দাবি বাস্তবায়ন করা হলে এক দফার আন্দোলনের প্রয়োজন হবে না। তবে দাবি পূরণ না হলে এক দফার আন্দোলনের জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের বড় অংশ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে তাদের মতামত জানিয়েছে। সরকারও গণভোট চেয়েছিল দাবি করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, পরে তাদের অবস্থান কেন পরিবর্তন করা হলো। জুলাই আন্দোলনে নিহতদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে সরকার গঠিত হলেও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, নতুন সংবিধানে লিখিত পরীক্ষার তুলনায় মৌখিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে দলীয় ক্যাডার ও সন্ত্রাসীদের নিয়োগের সুযোগ তৈরি করা হতে পারে।
২০২৪ সালের আন্দোলনে চাকরির অধিকার ও বৈষম্যবিরোধী দাবিতে তরুণদের জীবন দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে তাঁরা আবারও জীবন দিতে প্রস্তুত।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার ১৩ বছর বয়সী সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি উল্লেখ করে তিনি সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।
লংমার্চে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এবারের কর্মসূচি ঢাকা থেকে রংপুরের দিকে হলেও ভবিষ্যতে পঞ্চগড় থেকে ঢাকামুখী লংমার্চ হতে পারে। কোনো ধরনের হুমকি বা চাপকে তাঁরা গুরুত্ব দেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা ঘরে ফিরবেন না।
এর আগে শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে রংপুরের উদ্দেশে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শুরু হয়। সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল হয়ে বগুড়ার চান্দাইকোনায় পৌঁছালে স্থানীয় নেতাকর্মীরা লংমার্চের বহরকে স্বাগত জানান। পরে মাটিডালি বিমান মোড়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
পথসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন। বগুড়া থেকে শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে অনেকে লংমার্চে যোগ দেন। পথসভা শেষে লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে বগুড়া ত্যাগ করে।
এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



