গ্রাম বাংলাদেশবাংলা

‎গাইবান্ধায় ঘনকুয়াশায় জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা

রিফাতুন্নবী রিফাত, গাইবান্ধা থেকে: উত্তরের জনপদ গাইবান্ধায় প্রকৃতিতে বইতে শুরু করেছে শীতের আগমনী হাওয়া। ক্যালেন্ডারের পাতায় শরৎকাল শেষ না হলেও ভোরের ঘনকুয়াশা আর ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশির জানান দিচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের। সন্ধ্যার পর থেকে সকাল পর্যন্ত অনুভূত হচ্ছে হালকা শীতের আমেজ। বিশেষ করে ভোর ৫টা থেকে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা মিলছে ঘনকুয়াশার।
‎
সরেজমিনে দেখা যায়, ‎ধানের পাতা, ঘাসের ডগা আর পথের ধারে জমে থাকা শিশিরবিন্দুতে ভোরের প্রকৃতি সেজেছে নতুন রূপে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে মিষ্টি রোদের ঝিলিক আর সবুজের বুকে শিশিরের চিকচিক দৃশ্য তৈরি করছে মনোরম পরিবেশ। মাঠে মাঠে বেড়ে উঠছে আমন ধান। কুয়াশায় ঢাকা গ্রামীণ জনপদে প্রকৃতির এই পরিবর্তন যেন আগাম জানান দিচ্ছে শীতের।
‎
‎ভোরের কুয়াশায় জেলার বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী ইজিবাইক, পিকআপ, ট্রাক ও মোটরসাইকেলসহ নানা ধরনের যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। কুয়াশার চাদরে মোড়ানো পথঘাট আর শীতল বাতাসের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে চারপাশের পরিবেশ। ফজরের নামাজ আদায় করতে মসজিদে যাওয়া মুসল্লি, সকালে হাঁটতে বের হওয়া মানুষ, শিশু-কিশোর ও কর্মজীবীদের কাছে ভোরের এই আবহাওয়া হয়ে উঠছে উপভোগ্য।
‎
‎স্থানীয়দের অনেকের ধারণা, এবার আগেভাগেই শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। রাতে ফ্যান চালানোর প্রয়োজন কমে এসেছে, শেষ রাতে গায়ে জড়াতে হচ্ছে পাতলা কম্বল কিংবা কাঁথা। তবে কুয়াশা দেখা দিলেই যে শীতের তীব্রতা দ্রুত বাড়বে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। আবহাওয়ার প্রকৃত পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করবে আগামী দিনের তাপমাত্রা ও শীতের তীব্রতা।
‎
‎অন্যদিকে, শীতের আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার কৃষকেরা। জমিতে চাষ করা হচ্ছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, শিম, লাউ, টমেটো ও লালশাকসহ বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজি। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের আশায় পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকেরা। শীতের মৌসুম সামনে রেখে আগাম সবজি চাষে তাদের এই কর্মব্যস্ততা গ্রামীণ অর্থনীতিতেও নতুন আশার সঞ্চার করছে।
‎
‎সুন্দরগঞ্জ উপজেলার উত্তর শাহাবাজ কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সৌরভ ইসলাম বলেন, গত বছর কার্তিক মাসের মাঝামাঝি সময়ে এমন কুয়াশা দেখেছিলাম। এবারও একই রকম কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। ফজরের নামাজ আদায় করে সকালে হাঁটতে বের হতে বেশ ভালো লাগে। সকালের এই কুয়াশা দেখে মনে হচ্ছে, শীত আসতে আর বেশি দেরি নেই।
‎
‎একই উপজেলার কিশামত সর্বানন্দ আদর্শ বাজার এলাকার বাসিন্দা চাঁন মিয়া (৮০) বলেন, যেভাবে কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে, তাতে মনে হচ্ছে শীতের আগমন ঘটছে। কয়েক দিন আগে বৃষ্টি হয়েছে, এরপর ছিল হালকা গরম। এখন সকালে কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। ছয় ঋতুর এই দেশে আবহাওয়ার পরিবর্তন যেন কিছুটা আগে-পিছে হচ্ছে। এবার হয়তো আগেভাগেই শীত পড়তে পারে।
‎
‎ইজিবাইকচালক সাজু মিয়া বলেন, কুয়াশা দেখলেই শীত আসার কথা মনে হয়। কয়েক দিন ধরে রাতে গাড়ি চালানোর সময় কুয়াশার কারণে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে। তবে সকালে গাড়ি নিয়ে বের হলে শীতল ও স্নিগ্ধ আবহাওয়া বেশ ভালো লাগে।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, মৌসুমি বায়ু যত বিদায় নেবে এবং হিমালয় অঞ্চল থেকে ঠান্ডা বাতাস প্রবেশ করবে, ততই উত্তরের জেলাগুলোতে শীতের আমেজ বাড়বে। ইতোমধ্যে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত শীতের অনুভূতি কিছুটা বেড়েছে। তবে এ বছর শীতের প্রকৃত তীব্রতা কেমন হবে, তা জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button