বাংলাদেশ

ঘুষ না দিলে অডিট আপত্তি-হয়রানি, কর্মকর্তা বললেন ‘সম্পর্ক রাখলে সুবিধা পাবেন’

বাংলা টিভি ডেস্ক: লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে ৬০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে ভূমি মন্ত্রণালয়ের রাজস্ব বিভাগের জেলা হিসাব তত্ত্বাবধায়ক মঞ্জুরুল আলমের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, দাবি অনুযায়ী টাকা না দিলে অডিট আপত্তি দিয়ে হয়রানির হুমকি দিচ্ছেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, ঘুষ দিতে অনীহা প্রকাশ করায় ভূমি কর্মকর্তাদের নিয়ে রাতে দুই দফা বৈঠক করেন মঞ্জুরুল আলম। সেখানে দাবিতে রাজি না হলে অনিয়মের অভিযোগে ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। গত অর্থবছরেও জেলার বিভিন্ন ভূমি অফিস থেকে তাঁর বিরুদ্ধে অর্ধকোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জেলা শহরের পুরাতন শহীদ মিনার এলাকার একটি ভবনে গত ৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা এবং ৬ অক্টোবর রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ভূমি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মঞ্জুরুল আলম। সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজে এসব বৈঠকের দৃশ্য দেখা গেছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বৈঠকে তিনি কর্মকর্তাদের কাছে অর্থের চাহিদা তুলে ধরে সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে বলেন। কয়েকজন কর্মকর্তা নিজ নিজ অফিসের আর্থিক পরিস্থিতি তুলে ধরে অসহায়ত্ব প্রকাশ করলে তাঁদের ওপর আরও অর্থ দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করা হয়। একই সঙ্গে বড় অঙ্কের অডিট আপত্তি দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বৈঠকের কথোপকথন অডিও রেকর্ডেও রয়েছে।

গত ৭ অক্টোবর একটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অডিট করতে গিয়ে নগদ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে অন্য একটি অফিসে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে অডিট না করেই এক সহযোগীকে নিয়ে চলে যান বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

এদিকে, গত ১১ অক্টোবর থেকে আবারও অডিটের নামে ভূমি কর্মকর্তাদের কাছে আগের মতো অর্থ দাবি করে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এর আগে কুমিল্লা উত্তরে অডিট সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও হয়রানির অভিযোগ ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতির একাধিক নেতা জানান, প্রতিটি অফিসের কাছে ৬০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, অনুরোধ করার পরও অভিযুক্ত কর্মকর্তা নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। টাকা না দিলে অডিট আপত্তির মাধ্যমে হয়রানির আশঙ্কায় তাঁরা উদ্বিগ্ন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য দেন মঞ্জুরুল আলম। গোপন বৈঠক ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমি নিই। তবে তারা যতটা বলেছেন, আসলে ততটা না। এখানে অনেক বিষয় আছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমার ক্ষতি করে কী লাভ? আমার সঙ্গে সম্পর্ক রাখুন, আপনারাও অনেক সুবিধা পাবেন।”

তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো তদন্তের ফলাফল বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও যাচাই প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button