বাংলাদেশ

সেগুনবাগিচায় ফুটপাতের দেয়ালে যুক্ত হলো বেগম রোকেয়া, জসীমউদ্​দীন ও জীবনানন্দের প্রতিকৃতি

বাংলা টিভি ডেস্ক: রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দখলমুক্ত করা ফুটপাতের পাশের দেয়ালে যুক্ত হয়েছে নারী জাগরণ ও অধিকার আন্দোলনের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, পল্লিকবি জসীমউদ্‌দীন এবং কবি জীবনানন্দ দাশের প্রতিকৃতি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেয়ালটিতে নতুন করে তাঁদের ছবি আঁকা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ডিএসসিসির উদ্যোগে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি-সংলগ্ন ফুটপাতের দেয়ালে প্রতিকৃতি তিনটি যুক্ত করা হয়। এর আগে একই দেয়ালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ গুণী ব্যক্তির ছবি আঁকা হয়েছিল।

নতুন তিনটি প্রতিকৃতি যুক্ত হওয়ায় দেয়ালজুড়ে বরেণ্য ব্যক্তিদের উপস্থিতি আরও বিস্তৃত হয়েছে। তবে আগের তালিকায় থাকা সাংবাদিক ও সংগীতশিল্পী সঞ্জীব চৌধুরীর প্রতিকৃতি এবার বাদ পড়েছে।

ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মাহবুবুর রহমান তালুকদার গণমাধ্যমকে বলেন, পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নতুন প্রতিকৃতিগুলো যুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও গুণী ব্যক্তির ছবি আঁকা হবে। এ জন্য কয়েকটি দেয়ালও চূড়ান্ত করা হয়েছে, যেখানে শিগগিরই কাজ শুরু হবে।

সঞ্জীব চৌধুরীর প্রতিকৃতির পরিবর্তে অন্যদের ছবি আঁকার বিষয়ে তিনি বলেন, দেয়ালে বর্তমানে যাঁদের প্রতিকৃতি রয়েছে, তাঁদের সঙ্গে সঞ্জীব চৌধুরীর সময়ের ব্যবধান অনেক। এ ছাড়া আইয়ুব বাচ্চু ও আজম খানের মতো সংগীতশিল্পীদের প্রতিকৃতি না থাকা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিদের নিয়েও সিটি করপোরেশনের পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁদের প্রতিকৃতি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় আঁকার কথা ভাবা হচ্ছে।

প্রতিকৃতি আঁকার পাশাপাশি ফুটপাতটির অবকাঠামোগত উন্নয়নেও কাজ করেছে ডিএসসিসি। পথচারীদের সুবিধার্থে স্থাপন করা হয়েছে ডাস্টবিন ও বসার বেঞ্চ। সংস্কার করা হয়েছে সীমানাপ্রাচীরও।

এর আগে ফুটপাতটির একাংশ অবৈধ দখলে ছিল। ওই অংশ দখলমুক্ত করার পর জায়গাটিকে পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

গত ৫ অক্টোবর সোমবার সকালে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত দখল করে হকারদের বসতে দেওয়া হবে না। তবে হকারদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের জন্য বিকল্প স্থানে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখার বিষয়ে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে প্রশাসক বলেন, ঢাকাকে ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন’ রাখা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়; এ ক্ষেত্রে নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

দখলমুক্ত ফুটপাত, সংস্কার করা দেয়াল এবং বরেণ্য ব্যক্তিদের প্রতিকৃতির সমন্বয়ে সেগুনবাগিচার এলাকাটিকে আরও পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক করে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে ডিএসসিসি।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button