বয়স্ককে মারধরের ভিডিও ভাইরাল, নেপথ্যে যে ঘটনা

বাংলা টিভি ডেস্ক: রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক বয়স্ক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে ঘটনাটিকে ‘মব’ হিসেবে উল্লেখ করলেও পুলিশের দাবি, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এক তরুণীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনায় জড়িত এক যুবককে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর দুপুরে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকার সাতমসজিদ সড়কে বাংলাদেশ আই হাসপাতাল অ্যান্ড ইনস্টিটিউটের আশপাশে এ ঘটনা ঘটে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক বয়স্ক ব্যক্তি কান ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। এ সময় সাদা শার্ট পরা এক যুবক তাঁকে মারধর করছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব গণমাধ্যমকে জানান, ওই ব্যক্তির নাম শহীদ আব্দুল্লাহ আল মাসুদ। ২৮ বছর বয়সী এক তরুণীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
ওসি জানান, ঘটনার পর উপস্থিত লোকজন ওই ব্যক্তিকে আটক করে মারধর করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। অভিযোগকারী তরুণীকে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি তাতে সম্মত হননি।
পরে ওই ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাঁকে এক মাসের কারাদণ্ড দেন বলে জানান ওসি।
এদিকে, ভিডিওতে দেখা যাওয়া সাদা শার্ট পরা যুবককে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওসি মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব বলেন, ‘অভিযোগের কারণে কাউকে মারধর করার অধিকার কারও নেই।’ তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই যুবক আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, একদিকে তরুণীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে বয়স্ক ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে তাঁকে মারধরের ঘটনায় জড়িত যুবকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।
ঘটনাটি আবারও জনসমক্ষে কাউকে মারধর করে শাস্তি দেওয়ার প্রবণতা এবং অভিযোগের নিষ্পত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়টি সামনে এনেছে।



