রাজনীতি

ছাত্রলীগের পদের জন্য প্রতিদিন সাদ্দাম-ইনানের পা চাটত সারজিস: রাশেদ

বাংলা টিভি ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন, শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার কর্মকাণ্ড নিয়ে সারজিসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে সারজিস আলমকে কটাক্ষ করে রাশেদ খান লেখেন, ‘ছাত্রলীগের একটা কর্মী পদের জন্য যে সারজিস আলম প্রতিদিন সাদ্দাম-ইনানের পা চাটত, সেও আজকে আমাদের নিয়ে বড় বড় কথা বলে! শেখ মুজিবুর রহমানকে বাপ ডেকেও যার একটা পদ হয়নি, সেই পা-চাটা সারজিস আলম কোন লজ্জায় আমাদের নিয়ে কটাক্ষ করে?’

পোস্টে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সারজিস আলমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খান। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনের সময় সারজিসের ব্যক্তিগত পরিস্থিতি এবং পরবর্তী সময়ে তাঁর নেতা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের সময় যার চুলের স্পাইক পর্যন্ত নষ্ট হয়নি, পাঞ্জাবির ইস্ত্রির ভাঁজ পর্যন্ত ভাঙেনি, ডিবি অফিসে জুস খেতে খেতে যে ঘটনাচক্রে নেতা হয়ে গেছে, সেও আমাদের আন্দোলন-সংগ্রাম নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আমরা নাকি ২০১৮ সালে শেখ হাসিনার সঙ্গে আপস করে সরকার পতন না ঘটিয়ে শুধুমাত্র কোটা সংস্কার আন্দোলন করেছি!’

২০১৮ সালের আন্দোলনের পর শেখ হাসিনাবিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিজেদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন রাশেদ খান। তাঁর দাবি, পরবর্তী সময়ে আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে তাঁরা ক্যাম্পাসে একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন। অথচ সেই সময়ে সারজিস আলমের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এ বিষয়ে রাশেদ খান লেখেন, ‘আচ্ছা, ধরেই নিলাম, আমরা আপস করেছিলাম। কিন্তু ২০১৮ সালের পরে আমরা যখন শেখ হাসিনাবিরোধী লড়াইয়ে নেমেছি, ক্যাম্পাসে অসংখ্যবার মার খেয়েছি, তখন এই সারজিস আলম শেখ মুজিবুর রহমানকে বাপ ডাকতে ডাকতে ফেনা তুলে ফেলেছে!’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সারজিস আলমের কর্মকাণ্ড নিয়েও অভিযোগ তোলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগের কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসা এবং আন্দোলনের নেতাদের আটক বা গোয়েন্দা হেফাজতে নেওয়ার সময়কার বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান লেখেন, ‘জুলাইয়ের গাদ্দার সারজিস আলম শহীদের রক্ত মাড়িয়ে আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসে, এটা কি জাতি ভুলে গেছে? জাতি কি ভুলে গেছে, নাহিদ-আসিফকে তুলে নেওয়া কিংবা ডিবি হেফাজতে নেওয়ার পরেও কারফিউয়ের মধ্যে সারজিস-হাসনাত গোয়েন্দা সংস্থার গাড়ি করে ঘুরে বেড়িয়েছে!’

রাশেদ খানের এই পোস্টে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। তাঁর বক্তব্যে সারজিস আলমের অতীত ভূমিকা ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও, পোস্টে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। এ বিষয়ে সারজিস আলমের কোনো বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা-ও উল্লেখ করা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button