ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর টঙ্গীর ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল কারখানা বন্ধ ঘোষণা

বাংলা টিভি ডেস্ক: গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কারখানার সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।
কারখানার ফ্যাক্টরি ইনচার্জ মোহাম্মদ আবু সাঈদের স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়। তবে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম কবে নাগাদ পুনরায় চালু হবে, সে বিষয়ে নোটিশে কোনো নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করা হয়নি।
এর আগে বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে কারখানাটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে প্রথমে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন স্টেশন থেকে আরও ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সব মিলিয়ে ২১টি ইউনিটের প্রায় চার ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণের কাজ চালিয়ে যায় ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট। রাত সাড়ে ১০টার দিকে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা হয় বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মকর্তাসহ তিন সদস্য আহত হন। আহত ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর নূর উদ্দিন ও জহিরুল ইসলামকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ফায়ার ফাইটার কালামকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা মো. তালহা বিন জসিম জানান, অগ্নিকাণ্ডে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আগুনের প্রকৃত কারণ কী, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
কারখানাটির জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম এর আগে জানিয়েছিলেন, সেখানে প্রায় ২০০ শ্রমিক কাজ করেন। বুধবার সকালে কারখানার চতুর্থ তলা থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে জরুরি অ্যালার্ম বাজানো হলে শ্রমিকেরা দ্রুত কারখানা থেকে বেরিয়ে আসেন।
শহিদুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, কারখানাটিতে কোনো দাহ্য পদার্থ নেই। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।



