বাংলাদেশ

বক্তব্যে শহীদ জিয়ার নাম না বলায় ক্ষোভ, দুঃখ প্রকাশ শিক্ষা কর্মকর্তার

বাংলা টিভি ডেস্ক: নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করায় বিতর্কের মুখে পড়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ জুনায়েদ। তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে নিজের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব ও ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে মোহনগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ ঘটনা ঘটে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ জুনায়েদ। উপস্থিত বিএনপি নেতা-কর্মী ও কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার পুরো বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান উপস্থিত বিএনপির নেতা-কর্মীরা। একপর্যায়ে হলরুমে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে নিজের আসন ছেড়ে পুনরায় মঞ্চে ওঠেন শিক্ষা কর্মকর্তা। সেখানে তিনি আগের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য এবং এ দিনের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের সম্পর্ক তুলে ধরেন। এরপর পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এ বিষয়ে পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুজ্জামান ফরিদ বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তা তার বক্তব্যে একবারও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করেননি। অথচ ৭ নভেম্বরের ইতিহাসের সঙ্গে তার নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাকে বাদ দিয়ে এ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরা সম্ভব নয়। এ কারণেই নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। পরে শিক্ষা কর্মকর্তা দুঃখ প্রকাশ করায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ জুনায়েদ বলেন, তাকে অনুষ্ঠানে কেবল স্বাগত বক্তব্য দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আগে থেকে কোনো লিখিত বক্তব্য বা নির্দিষ্ট স্ক্রিপ্ট তৈরি করা ছিল না। তাৎক্ষণিকভাবে বক্তব্য দিতে গিয়ে আলোচ্য বিষয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, বক্তব্য শেষ হওয়ার পর একজন ব্যক্তি মঞ্চে উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় দর্শক সারিতে থাকা কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পরে তিনি আবারও বক্তব্য দিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করেন এবং ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য ও জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুন বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তার বক্তব্যে জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। লিখিত বক্তব্য না থাকায় অনিচ্ছাকৃতভাবে এমনটি হয়েছে বলে কর্মকর্তা তাকে জানিয়েছেন। পরে বিষয়টি অনুষ্ঠানস্থলেই সমাধান করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button