নুড়ি পাথর কুড়িয়ে জীবিকা র্নিবাহ

দেশের সর্ব উত্তরের প্রান্তিক জেলা পঞ্চগড় হিমালয়ের কাছে হওয়ায় প্রতিবছর এখানে শীতের দাপট অনেকটা বেশি থকে। চলতি শৈত্যপ্রবাহে তীব্রশীতে যেখানে ঘর থেকে বের হওয়া দায়, সেখানে স্থানীয় হাজার হাজার শ্রমিক জীবিকার সন্ধানে ছুটছেন সীমান্ত ঘেঁষে হিমালয় থেকে বয়ে আসা বরফগলা মাহানন্দা নদীর পানিতে।
প্রতিদিন শীতকে উপেক্ষা করে সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত বরফগলা পানিতে নেমে নুড়ী পাথর কুড়িয়ে জীবিকা র্নিবাহ করছেন।
দেশের সর্ব উত্তরের হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত সীমান্ত উপজেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া।ঐ পাড়ে ভারত আর বাংলাদেশ।দু’দেশকে ভাগ করেছে হিমালয় থেকে বয়ে আসা বরফগলা মহানন্দা স্রোতের পানি। এখানকার শ্রমিকদের অন্যতম আয় পাথর উত্তোলন।
আর উপার্জনের অন্য কোনো ব্যবস্থা না থাকায়,পরিবারের চাহিদা পূরণে শীতকে উপেক্ষা করে তারা দলবেধে বাতাসে ফুলানো গাড়ির চাকার টিউব, লোহার চালনি, পাথর শনাক্তের জন্য লোহার রড নিয়ে মহানন্দার বরফগলা পানিতে নেমে নুড়িপাথর উত্তোলন করছেন।
পরে পানিতে ভাসানো টিউবের ঢাকিতে করে উত্তোলনকৃত পাথর দুকাঁধে ভর করে তীরে এনে জমা করেন। সন্ধ্যায় মহাজনের কাছে বিক্রিলব্ধ টাকায় জোটে আহার। দিনশেষে প্রতিদিন মজুরি হিসেবে পান ২ থেকে ৩শ টাকা। আর এটাই পরিবারের চাবিকাঠি।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসহায় এসব শ্রমিকদের সরকারীভাবে র্কাডের মাধ্যমে ভাতা প্রদানের আহবান জানান, স্থানীয় সমাজ সেবক মতিউর রহমান মতি। প্রতিবছর তীব্রশীতে এ অঞ্চলের অসহায় মানুষদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য সরকারের সু-দৃষ্টি চান, উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী মাহামুদুর রহমান ডাবলু।
জীবনযুদ্ধে এ অসহায় মানুষগুলো ঝুঁকি নিয়ে সীমান্ত নদীর বরফগলা পানিতে দিনভর যুদ্ধ করে কোনোমতে বেঁচে আছেন।তাদের সহায়তায় দ্রুত সরকারী উদ্যোগ নেয়ার দাবি শ্রমিকদের।
ডিজার হোসেন বাদশা, পঞ্চগড় প্রতিনিধি



