
চলমান করোনাভাইরাস সঙ্কটে সরকারের বরাদ্দকৃত ত্রাণের চাল সারাদেশে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা বেছে বেছে নিজস্ব লোকজনের মধ্যে বিতরণ করছেন, বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।
একইসাথে প্রধানমন্ত্রী ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার যে প্রণোদন ঘোষণা করেছেন সেখানে অসহায় গরিব মানুষের জন্য কোনো কিছুই বরং সেটি শুভঙ্করের ফাঁকি বলে দলটির দাবি।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সোমবার সকালে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন।
গণমাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, গরীব মানুষের মধ্যে ত্রাণের জন্য হাহাকার চলছে। ত্রাণের চাল চুরি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা থাকলেও থেমে নেই অপকর্ম। প্রতিদিনি সংবাদপত্রে আওয়ামী লীগের স্থানীয় অনেক নেতাদের বিরুদ্ধে ত্রাণের চাল চুরি ও লুটপাটের খবর প্রকাশিত হচ্ছে।
কারো কারো গুদামে অভিযান চালিয়ে বিক্রয় নিষিদ্ধ ভিজিডির চাল, ত্রাণের চাল উদ্ধার করা হচ্ছে। এতদিন হয়েছিল সরাসরি টাকা লোপাট, এখন হচ্ছে রিলিফ লোপাট। রিজভী বলেন, দেশের বর্তমান সঙ্কট মানুষের বাঁচা-মরার সাথে জড়িত।
এই সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিএনপি সরকারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত। কারণ বিএনপি বিশ্বাস করে, ‘দেশ ও মানুষের কল্যাণের জন্যই রাজনীতি’।
লিখিত বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে দেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার পাঁচটি প্যাকেজে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
কিন্তু তার এই প্যাকেজগুলো মূলত সরকার সমর্থক শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের কম সুদে ব্যাংক থেকে ঋণের সুবিধা দেয়া। ঋণ দেয়া তো ব্যাংকের স্বাভাবিক ব্যবসা। এটা তো প্রণোদনা নয়। সুদের হারের কমানো যে অংশটুকু সরকার ভর্তুকি দেবে, প্রণোদনা শুধু সে অংশটুকুই।
কাজেই মোট ঋণের সাড়ে ৭২ হাজার কোটি টাকাকেই প্রণোদনা প্যাকেজ হিসেবে দেখানো আসলে মস্ত একটা শুভঙ্করের ফাঁকি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেড় কোটি মানুষ কর্মচ্যুত হতে যাচ্ছে। এসব মানুষ ও তাদের পরিবারকে খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
অর্থাৎ প্রতি পরিবারে চারজন করে হিসাব করা হলেও প্রায় ৫ কোটি মানুষকে খাবার সরবরাহ করতে হবে। সেটার কোনো কার্যকর পরিকল্পনা নেই এই প্যাকেজে।
বাংলাটিভি/ আসাদ রিয়েল



