
লাদাখ সীমান্তে চলমান উত্তেজনার জেরে চীন ও ভারত বড়ধরণের কোন সংঘাত কিংবা যুদ্ধে জড়িয়ে গেলে, বাংলাদেশ একরকম জটিল পরিস্থিতিতে পড়বে বলে মনে করছেন, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বাংলাদেশের সঙ্গে উভয় রাষ্ট্রেরই সু-সম্পর্কে থাকায়, এক্ষেত্রে কোনো পক্ষ অবলম্বন না করে, বিচক্ষণতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলার পরামর্শ বিশ্লেষকদের।
সারাবিশ্ব যখন মহামারি করোনা আতঙ্কে ভুগছে, তখন গেল সোমবার লাদাখ সীমান্তে ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে সংঘাতে ২৩ ভারতীয় সেনা নিহত হন। ভারতও দাবি করেছে, ওই ঘটনায় চীনের ৪৩ সেনা নিহত হয়েছেন। ৪৫ বছরের মধ্যে, এই প্রথম লাদাখের নিয়ন্ত্রণ রেখায় সংঘর্ষে এতো সৈন্য মারা গেল। দু’পক্ষ থেকেই উত্তেজনা প্রশমনের জন্য তাগিদ দেয়া হলেও, যুদ্ধাবস্থার আশঙ্কাও একেবারে উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশ দুটি যদি সত্যিই বড় সংঘাত কিংবা যুদ্ধে জড়িয়ে যায়, তাহলে বাংলাদেশও কিছুটা জটিলতায় পড়তে পারে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে বলছে, বাংলাদেশের মতো দেশগুলো, যাদের চীন-ভারত দুই দেশের সঙ্গেই সুসম্পর্ক, যুদ্ধাবস্থা শুরু হলে সেসব দেশের জন্য বেশ জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।
একই অভিমত, চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সাবেক চেয়ারম্যান মুন্সি ফয়েজ আহমেদরও। এই বিশ্লেষকের মতে, দেশদুটির সঙ্গে বাংলাদেশের পারষ্পারিক বিভিন্ন সহযোগিতা-সমন্বয়ের কারণে, চাপ তৈরি হলেও কোনো দেশেরই পক্ষ অবলম্বন করা উচিত হবে না।
তবে লাদাখে উত্তেজনা থাকলেও শান্তি ফিরিয়ে আনতে, বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত চীন-ভারত সমঝোতার দিকেই যাবে বলে প্রত্যাশা সাবেক এ রাষ্ট্রদূতের।
আসাদ রিয়েল, বাংলাটিভি



