
না ফেরার দেশে চলে গেলেন করোনায় আক্রান্ত বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রবীণ সাংবাদিক কামাল লোহানী। শনিবার সকালে রাজধানীর মহাখালীতে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়ার খান মনতলা গ্রামে ১৯৩৪ সালের জন্মগ্রহণ করেন কামাল লোহানী। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে অংশ নেয়ার মধ্য দিয়ে তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ১৯৫৫ সালে গ্রেপ্তার হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাজউদ্দীন আহমদের সঙ্গে একই জেলকক্ষে বন্দিজীবন কাটান। সেই সময়ই বঙ্গবন্ধুর সন্নিকটে আসেন তিনি।
এরপর ষাটের দশকের শেষভাগে ন্যাপের রাজনীতিতে জড়িয়ে কামাল লোহানী যোগ দেন আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে। মুক্তিযুদ্ধের একজন অন্যতম সংগঠকও তিনি।
তিনি বাংলাদেশ বেতারের পরিচালক ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ছিলেন। ১৯৬২ সালে ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ছায়ানট, উদীচী, ক্রান্তিসহ বহু সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।

এছাড়াও দৈনিক মিল্লাত দিয়ে সাংবাদিকতার শুরুর পর আজাদ, সংবাদ, পূর্বদেশ ও দৈনিক বার্তায় গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন তিনি। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি। সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৫ সালে একুশে পদক দেয়া হয় কামাল লোহানীকে।
প্রসঙ্গত, শনিবার সকালে বেসরকারি একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার বিকেলে কামাল লোহানীকে আইসিইউতে নেয়া হয়। দীর্ঘদিন থেকে বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি।
এদিকে, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।



