অন্যান্যঅপরাধআইন-বিচারবাংলাদেশ

রিজেন্ট ও জেকেজির প্রতারণা:স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন নিয়ে মহামারী করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসার নামে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি হাতিয়ে নিয়েছে  রিজেন্ট হাসপাতাল ও জেকেজি হেলথ কেয়ার। প্রশ্ন ওঠেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কি না জেনেই এ দুটি প্রতিষ্ঠানকে করোনা  চিকিৎসার অনুমোদন দিয়েছিলো? না কি বিষয়টি অবগত থাকলেও তা আমলে নেয়া হয়নি? তবে, যেখানে মানুষের জীবন-মরণের প্রশ্ন, সেখানে আরো সতর্ক থেকে সংশ্লিষ্টদের কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।  

রিজেন্ট আর জেকেজির সঙ্গে চুক্তি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসর্তকতাকেই দায়ি করলেন তথ্যমন্ত্রী। আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দায় চাপিয়েছেন সাবেক স্বাস্থ্য সচিব আসাদুল ইসলামের মৌখিক নির্দেশনার ওপর। এখন প্রশ্ন হলো স্বাস্থ্য সচিবের এমন মৌখিক নির্দেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কারো সাথে কোন লিখিত চুক্তি করার এখতিয়ার রাখে কিনা ?

করোনা সংক্রমনের প্রাথমিক অবস্থায় সারাদেশের হাসপাতাল, ক্লিনিক আর স্বাস্থ্যসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যখন মহামারির চিকিৎসা সেবা প্রদান করবে কি না তা নিয়ে ভাবনা-চিন্তায় ব্যস্ত,  ঠিক তখনই ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সঙ্গে কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে চুক্তি করে রিজেন্ট হাসপাতাল। অথচ হাসপাতাল হিসেবে কোন বৈধতাই ছিলো না রিজেন্টের, যা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অবগত থাকলও বিষয়টিকে আমলে নেয়া হয়নি।

এদিকে, প্রায় একই কায়দায় প্রভাবশালীদের সাথে সুসর্ম্পকের মাধ্যমে জেকেজির চেয়ারম্যান ডাক্তার সাবরিনা করোনার নমুনা পরীক্ষার কাজ কুক্ষিগত করে নেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে।

মহামারীর এই সংকটে রিজেন্ট আর জেকেজির সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরো সতর্ক থাকা উচিত ছিলো বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষ এখন চিকিৎসাসেবা নিয়ে  নানা রকম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ অবস্থায় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে মানুষের দূর্ভোগ না বাড়িয়ে, দায় স্বীকার করে নিজেদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার পরামর্শ তাদের।

বাংলাটিভি/শহীদ

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button