আন্তর্জাতিকমধ্যপ্রাচ্য

অবশেষে লেবানন সরকারের পদত্যাগ

বৈরুত বন্দরে বিষ্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় সরকারের অবহেলা এবং দেশটিতে চলমান অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে, এক সপ্তাহের টানা জনবিক্ষোভের মুখে, অবশেষে পদত্যাগ করেছে লেবানন সরকার। প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রীসভার সদস্যদের নিয়ে পদত্যাগের ঘোষণার পর দেশের রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেয়া হয়।  এদিকে, সরকার পতনের খবরে, রাজপথ জুড়ে আনন্দ-উল্লাস করে লেবাননের জনসাধারণ।

অবশেষে বিক্ষুব্ধ জনগণের জয়জয়কার। বৈরুত বন্দরে বিষ্ফোরণে ব্যাপক হতাহতের ঘটনায়, সপ্তাহজুড়ে টানা গণআন্দোলনে পদত্যাগ করতে বাধ্য হলো, লেবাননের ক্ষমতাসীন সরকার। বিক্ষোভকারীদের দাবির সঙ্গে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব, সরকারের বেশিরভাগই দুর্নীতিগ্রস্তের অভিযোগে সহমত পোষণ করেন।

বন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায়, সরকারের অবহেলার কথা স্বীকার করে লেবাননে অর্থনৈতিক সঙ্কট, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পদত্যাগের কথা জানান দিয়াব। আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, আপাতত তাদের মন্ত্রীসভা পদত্যাগ করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশ পরিচালনা করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

তিনি বলেন, আমি দেশকে বাঁচাতে একটি রোডম্যাপ তৈরির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু দুর্নীতি সবকিছুকেই ছাপিয়ে গেছে। বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ীদের বিচারে লেবানিজদের দাবিকেও সমর্থন জানাচ্ছি। রাজধানীর বৈরুত বন্দরের গুদামে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক পদার্থ গত সাত বছর ধরে পড়ে থাকা অবহেলা ও দুর্নীতিই ফল। সরকার এ ঘটনার দায়ভার নিয়ে মন্ত্রীসভার সকল সদস্য পদত্যাগ করছে।

গত ৪ আগস্ট, বৈরুত সমুন্দ্রবন্দরে অ্যামেনিয়াম-নাইট্রেট বোঝাই জাহাজে, ভয়াবহ বিস্ফোরণের প্রায় দুই শ মানুষ প্রাণ হারায়, আহত হয় অন্তত ৬ হাজার। এছাড়া বিষ্ফোরণের প্রভাবে কয়েক লাখ মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এক দশক ধরে এমনিতেই চরম অর্থনৈতিক সংকটে জর্জড়িত লেবানন। বৈরুত বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও প্রবল হয় গণআন্দোলন। সরকারের অনিয়ম-অবহেলায় ব্যাপক হতাহতের কারণে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে সাধারণ মানুষ।

রাজপথজুড়ে দেশটির আইনশৃংখলা বাহিনীর সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষেও, হাল ছাড়েনি জনতা। এরমধ্যে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেয়, আন্তর্জাতিক গোষ্ঠি। শেষ পর্যন্ত, জনরোসে লেবানন সরকারের পদত্যাগ।

ডেস্ক রিপোর্ট, বাংলা টিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button