
২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর, মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নেও অভূতপূর্ব উন্নতি সাধিত হয়। তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর অবকাঠামো উন্নয়নে নেয়া হয় মহাপরিকল্পনা।
কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ ও খাদ্য নিরাপত্তাসহ সার্বিক অর্থনীতিতে এখন সরব বিপ্লব। দেশের মানুষের একটি অংশের অর্ধাহার-অনাহারকে বিদায় জানিয়ে, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল।
২০০৮ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট। এরপরই দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দেন প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তার নেতৃত্বে ধারাবাহিক মেয়াদে অবকাঠামো উন্নয়নে গত এক যুগে বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প হাতে নেয় সরকার; যার একটি হলো স্বপ্নের পদ্মা সেতু। সোয়া ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুর নির্মাণকাজ এরই মধ্যে ৯১ শতাংশ শেষ হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণা বলছে, পদ্মা সেতু চালু হলে বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশ বাড়বে। এ সেতুর কারণে বদলে যাবে পুরো দক্ষিণাঞ্চল।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)’র সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন মানে গ্রামবাংলার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন।
নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য পদ্মা সেতুর পাশাপাশি, এর রেল সংযোগ, কক্সবাজার থেকে মিয়ানমারের ঘুনধুম পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ, রাজধানীতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বাস র্যাপিড ট্রানজিট-বিআরটি নির্মাণের মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার।
আইএমইডি’র সচিব জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে বৈশ্বিক স্থবিরতার মধ্যেও থেমে নেই এসব উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রত্যক্ষ সুবিধা ছাড়াও একটি মেগা প্রকল্পের বহুমুখী ইতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়। যার ফলাফলে সমাজ ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। এছাড়াও গত এক যুগে গ্রামীণ রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট নির্মাণও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে বড় ভূমিকা রেখেছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নেয়া মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে ত্বরান্বিত হবে দেশের অগ্রযাত্রা; এতে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি, বাড়বে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও।
আসাদ রিয়েলে, বাংলা টিভি



