
প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করেও নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলছেন দেশের নারীরা। বর্তমানে দেশের মোট উদ্যোক্তার প্রায় ৩৬ শতাংশই নারী। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি)’র তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখন ক্ষুদ্র ও মাঝারি নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা প্রায় ২৪ লাখ। বিগত এক যুগে সরকারের নেয়া নানা কল্যাণমুখী উদ্যোগের ফলেই এসব সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন, সংশ্লিষ্টরা।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ স্বাধীনের পরপরই সরকারি চাকরিতে নারীদের জন্য ১০ শতাংশ কোটা নির্ধারণে উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগ নারীদের উদ্যোক্তা করার পাশাপাশি, তাদের জন্য নানা ধরনের সুযোগও সৃষ্টি করে। ২০১১ সালের নভেম্বরে সরকারের অর্থায়নে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ‘জয়িতা’ কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন শুরু করে। পরবর্তীতে জয়িতাকে একটি স্বতন্ত্র ফাউন্ডেশনে রূপ দেওয়া হয়। দেশজুড়ে নারী উদ্যোক্তাদের কল্যাণে ‘জয়িতা’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। যেহেতু, সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীকে, পেছনে রেখে তা সম্ভব নয়- তাই নারীর উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এ ছাড়া, জাতীয় বাজেটে প্রতিবছর বাড়ানো হচ্ছে নারীদের জন্য বরাদ্দ। চলতি অর্থবছরের বাজেটেও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এর পরিমাণ ৩ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা; যা আগের বছরের তুলনায় ৭১ কোটি বেশি।
প্রতিবছরই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে শহরের পাশাপাশি গ্রাম পর্যায়েও নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বাড়ছে। আর এই ধারা অব্যাহত রাখতে, সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোও জরুরী বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
আসাদ রিয়েল, বাংলা টিভি



