দুইবারের এমপি পেলেন গৃহহীনদের ঘর, সংশয় প্রকাশ

ভাড়া বাসার মেঝেতে স্ত্রী সন্তান নিয়ে থাকা সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য এনামূল হক জজ মিয়া, গৃহহীনদের ঘর পেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেও, সেই ঘরে ওঠা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। এমন অবস্থার মুখোমুখি হতে হবে কখনও, ভাবেননি তার সহধর্মীনি। সরকারের কাছে একক ভাবে তাকে একটি আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
গেল ২৩ জানুয়ারী ঘটা করে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা পরিষদ হল রুমে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে ২০০ জনকে জমি ও ঘরের দলিল এবং চাবি তুলে দেন, স্থানীয় সংসদ ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল।
এসময় সাবেক দুই বারের সংসদ সদস্য এনামুল হক জজ মিয়াকে জমির দলিলসহ গৃহ হস্তান্তর করা হয়। এক সময় যে হাত দিয়ে মন ভরে মানুষের উন্নয়ণ করতে সেই হাতে ঘরের দাবি পেয়ে আবেগ আল্পুত জজ প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তবে চক্ষু লজ্জার কারণে গৃহীনদের ঘরে উঠতে সংশয়ে রয়েছেন তিনি ও তার স্ত্রী।
এক সময় গফরগাঁও পৌর শহর ও ঢাকায় বিলাসবহুল বাড়ি ছিল জজ মিয়ার। কিন্তু সর্বশেষ পৌর শহরে ১২ শতাংশ জমি মসজিদের নামে লিখে দিয়ে এক রুমের ভাড়া বাসার মেঝেতে থাকছেন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে। স্থানীয়দের দাবি জজ মিয়াকে একক ভাবে আশ্রয়ের সুযোগ করে দেয়ার।
উপজেলা তালিকা কমিঠির আওতায় নাম আসায় সাবেক দুই বারের সাংসদকে ঘর দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে অন্যান্য সুযোগের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন, গফরগাঁও পৌর মেয়র ও জেলা প্রশাসক।
এনামুল হক জজ মিয়া ১৯৭২ জাতীয় পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের পালিত মেয়ে নাজুকে বিয়ে করার সুবাধে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে ময়মনসিংহ-১০ গফরগাঁও আসন থেকে জাতীয় পার্টির হয়ে দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। প্রথম স্ত্রী নাজু এক মেয়েকে নিয়ে আমেরিকায় থাকেন।
দ্বিতীয় স্ত্রী নাছিমা হক ঢাকার পুরানা পল্টন ও মিরপুর কাজী পাড়ায় দুই সন্তান নিয়ে দুটি বাড়িতে থাকেন। সহায় সম্পদ যা ছিল সবই এই দুই স্ত্রী ও সন্তানদের নামে লিখে দিয়েছিলেন জজ।
এম এস ফুয়াদ, ময়মনসিংহ ব্যুরো চীফ



