দেশবাংলাবাংলাদেশ

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ১৭ বছর আজ

বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় নৃশংস গ্রেনেড হামলার, ১৭ বছর হলো আজ। ২০০৪ সালের এই দিনে, তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশে, এ হামলা চালানো হয়। এতে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা প্রাণে বাঁচলেও, নিহত হন দলের ২৪ নেতাকর্মী; আহত হন চার শতাধিক। ইতিহাসের বর্বোরচিত এই গ্রেনেড হামলার বিচারকাজ এখনো চুড়ান্ত হয়নি। ২০১৮ সালে বিচারিক আদালত ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণার ৩ বছর পেরিয়ে গেলেও, উচ্চ আদালতে আজও শুরু হয়নি আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশ আয়োজন করেছিলো তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ। জনসভায়, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষে হঠাৎ বিকট শব্দে বোমার বিস্ফোরণ ঘটে।

পরপর ১৩টি গ্রেনেডের বিস্ফোরণে মুহূর্তের মধ্যে রক্তাক্ত হয়ে যায় সমাবেশস্থল।  শত শত মানুষের আর্তচিৎকার, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নিথর দেহ আর বারুদের ঝাঁঝালো গন্ধে বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় গোটা বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এলাকায়। ওই হামলায় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা প্রাণে বেঁচে গেলেও, নিহত হন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিনী ও মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন। বোমার স্প্লিন্টারে আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হন আরো অন্তত চার’শ বেশি মানুষ।

এদিকে, নৃশংস এ হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলা নিয়েও পরবর্তীতে নানা নাটকীয়তা চালায় তৎকালীন প্রশাসন। বিএনপি সরকারের আমলে জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে, মামলাটিকে ভিন্নখাতে নেয়ারও অভিযোগ ওঠে। এছাড়া বার বার তদন্ত কর্মকর্তা বদল করেও, দীর্ঘায়িত করা হয় মামলার তদন্তকাজ।

পরবর্তীকালে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর গতি পায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে করা বহুল আলোচিত ঐ মামলা। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর, ঘটনাকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন, ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয় পলাতক তারেক রহমানসহ আরও ১৯ জনকে। এছাড়া ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। বিচারিক আদালতে রায়ের ৩ বছর পরও এখনও মামলাটি হাইকোর্টে আপিল শুনানির অপেক্ষায়।

বাংলা টিভি/রাজ 

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button