
এর মধ্যে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জনকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহতদের নাম জানা যায়নি।
‘রায়পুর নতুন বাজার এলাকার শহীদ মিনারে আজ সকালে বিএনপির নেতাকর্মীরা ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে ফুল দিতে যান। এটি তাদের কোনো আন্দোলন ছিল না। ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধায় ফুল দেওয়ার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিএনপির ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে নিজেদের রক্ষায় তারাও পাল্টা হামলা চালায়।’
অপরদিকে, উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক তারেক আজিজ জনি বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিলের নামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে খারাপ-খারাপ স্লোগান দেয়৷ এতে আমরা প্রতিবাদ করি। তারাই আমাদের ওপর প্রথমে ইট-পাটকেল ছোড়ে। এতে আমাদের ১০ থেকে ১২ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।’
জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাছিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে আসার পথে পেছন থেকে আওয়ামী লীগের লোকজন ইট-পাটকেল ছোড়ে। কোনো কারণ ছাড়াই আওয়ামী লীগ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। এতে আমাদের অন্তত আট জন আহত হয়েছেন।’
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিপন বড়ুয়া বলেন, ‘শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে আসার পথে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় কেউই আটক নেই। কেউ এখনও অভিযোগও করেনি। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।’
এদিকে, সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে মারামারিতে ৮ জন আহত হয়েছে। দুপুর ১২টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
আহতরা হলেন- বোরহান উদ্দিন (২৬), রিয়াজ (১৯), মো. সুলতান (১৯), প্রিন্স দাশ (১৯), মো. রাকিব (২০), এসএম ইব্রাহীম (২০), জনি দাশ (২১) ও নুর আলম (২২)।
চমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মহসিন কলেজ ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মারামারিতে আহত ৮ জনকে দুপুর দেড়টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তির পর তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একুশে ফেব্রুয়ারিতে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে কলেজ ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস জাহান বলেন, মহসিন কলেজ ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্যাম্পাসে যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আহত কয়েকজনকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বাংলাটিভি/রাজ



