আন্তর্জাতিকএশিয়া

অনাস্থা ভোটে হেরে পাক প্রধানমন্ত্রীর বিদায়

রাজনৈতিক উত্তেজনাময় একটি ঐতিহাসিক দিন পার করল পাকিস্তান। শনিবার মধ্যরাতে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে হেরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

স্বাধীনতার পর এবারো দেশটির ইতিহাসে কোনো নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মেয়াদ পূর্ণ করতে পারলো না। ইমরান খানও তার ব্যতিক্রম হলেন না। তবে এদিন ইমরান খান নামটির সঙ্গে একটি নতুন ইতিহাসও যুক্ত থাকলো। তিনি পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম প্রধানমন্ত্রী, যিনি পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতা হারিয়েছেন।

মধ্যরাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটি হয়েছে। ৩৪২ আসনের পার্লামেন্টে ১৭৪ জন সদস্য ইমরান খানের বিরুদ্ধে ভোট দেন। পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটির সময় সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদল পিএমএল-এন’র নেতা আয়াজ সাদিক। এর কিছুক্ষণ আগে, জাতীয় পরিষদের স্পিকার আসাদ কায়সার ও ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরি পদত্যাগ করেন। তাদের বিরুদ্ধেও অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিল বিরোধী দলগুলো।

জাতীয় পরিষদের নিয়ম অনুযায়ী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর ফলে এখন নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। জাতীয় পরিষদের যেকোনো সদস্য এ শীর্ষ পদের জন্য কোনো মুসলিম প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করতে পারবেন। কিন্তু কোনো আইনপ্রণেতার নাম দুইবার জমা দেওয়া যাবে না। শুধুমাত্র একটি মনোনয়নপত্রে তাদের নাম দেওয়া যেতে পারে।

অনাস্থা প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটি পাকিস্তানের টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। এ সময় সদস্যদের স্লোগান দিতে দেখা যায়। বহু সদস্য শিস দিতে থাকলে স্পিকার তাদের নিবৃত্ত করেন।

অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও ভুল পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের অভিযোগ তুলে ইমরান খান ও তার নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের বিরুদ্ধে গত ৮ মার্চ অনাস্থা প্রস্তাব আনে বিরোধী দলগুলো। পরে শরিক দল মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্টে (এমকিউএম) বিরোধী শিবিরে যোগ দিলে জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় ইমরান সরকার।

তবে গত ৩ এপ্রিল জাতীয় পরিষদের স্পিকার এক নাটকীয় সিদ্ধান্ত নেন। এদিন অনাস্থা প্রস্তাবটি ভোটে না দিয়ে বিদেশি ষড়যন্ত্রের অভিযোগে প্রস্তাবটি খারিজ করে দেন।  এর পরপরই প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পরামর্শে পার্লামেন্ট ভেঙে দেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। এর মাধ্যমে পাকিস্তানের রাজনীতিতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। পার্লামেন্টের স্পিকার অনাস্থা প্রস্তাবটি সংবিধান মেনে খারিজ করেছেন কি না—সে ব্যাপারে চূড়ান্ত ফয়সালার জন্য সুপ্রিম কোর্টে যায় বিষয়টি।

বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরির ৩ এপ্রিলের আদেশ অবৈধ ঘোষণা করেন এবং প্রেসিডেন্টের ভেঙে দেওয়া পার্লামেন্টকে পুনর্বহাল করেন। একইসঙ্গে, শনিবার (৯ এপ্রিল) ইমরান খানের ব্যাপারে অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর পার্লামেন্টে ফের ভোটাভুটিরও নির্দেশ দেন আদালত।

শনিবারই রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি আদালতে জমা দেয় ইমরান খানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফ। এ ব্যাপারে এদিন মধ্যরাতে আদালত বসান প্রধান বিচারপতি। রাতে এ ব্যাপারে আদালতের পিটিশন আসার কথা রয়েছে। তবে এর আগেই পার্লামেন্টে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৯৯২ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে জয়ী পাকিস্তান দলের অধিনায়ক ছিলেন ইমরান খান। তুমুল জনপ্রিয়তা নিয়ে ১৯৯৬ সালে রাজনীতির ময়দানে আসেন ইমরান খান। ওই বছরই প্রতিষ্ঠা করেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। ১৯৯৭ সালে দুটি আসনে নির্বাচনে দাঁড়ালে দুটিতেই তিনি হেরে যান। ২০০২ সালের নির্বাচনে অবশ্য পার্লামেন্ট সদস্য হন ইমরান খান।

নানা রাজনৈতিক চড়াই-উৎরাইয়ের পর ২০১৩ সালে বড় সফলতা পান ইমরান খান। ওই বছর পাকিস্তানের ১০ম জাতীয় নির্বাচনে তেহরিক-ই-ইনসাফ দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে পার্লামেন্টে যায়। ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই পাকিস্তানের ১১তম জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে পার্লামেন্টে সর্ববৃহৎ দলে পরিণত হয় তেহরিক-ই-ইনসাফ। ২০১৮ সালের ১৮ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি।

বাংলাটিভি/রাজ

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button