
শাহবাগ ফুল মার্কেটে হামলার ঘটনায় সাদেক মোল্লাসহ গ্রেপ্তার ৩ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সাদেকুর রহমান ওরফে সাদেক মোল্লা, সাব্বির ও রাব্বি। গত শুক্রবার (৩ ফেব্রুয়ারি ) দুপুর ২টার দিকে শাহবাগ এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে, হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
জানা গেছে, শুক্রবার জুমার নামাজের সময় গ্রেপ্তারকৃত সাদেক মোল্লাসহ অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে শাহবাগ ফুল মার্কেটের ‘আনিকা পুস্প বিতানে’ লুটপাট ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সংগঠিত করার উদ্দেশ্যে অতর্কিত হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এসময় ফুল মার্কেটে অবস্থিত আনিকা পুষ্প বিতানের পাশ্ববর্তী দোকানের ব্যবসায়ীরা হামলাকারীদের বাঁধা দিতে গেলে ফুল ব্যবসায়ী আবুল কালাম, আনোয়ার, জালাল, শামীম, সিফাত সহ আনিকা পুস্প বিতানের কর্মচারী নাজমুল ও রফিক হামলাকারী সন্ত্রাসীদের আঘাতে গুরুতর আহত হন।
হামলার ঘটনায় আনিকা পুস্প বিতানের স্বত্বাধিকারী ফুল ব্যবসায়ী আবুল কালাম বাদী হয়ে সেদিন-ই সাদেকুর রহমান ওরফে সাদেক মোল্লা, সাব্বির ও রাব্বি সহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনকে আসামী করে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন, মামলা নং ০৮/৪৭। মামলায় আটককৃতদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে গত শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আসামীদের ঢাকা সিএমএম কোর্টে প্রেরণ করা হয়। পরে আদালতের বিজ্ঞ ম্যজিস্ট্রেট আসামীদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আসামীদের কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলা তদন্তনাধীন, তদন্ত করে প্রতিবেদন যথানিয়মে মামলার অগ্রগতির জন্য কোর্টে পেশ করা হবে। সেই সাথে ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদেরকেও খোঁজে বের করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনারাবৃত্তি যাতে আর না ঘটে সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনার মূল হোতা ও মামলার প্রধান আসামী মোঃ সাদেকুর রহমান ওরফে সাদেক মোল্লা নিজেও একজন ফুল ব্যবসায়ী। তার গ্রামের বাড়ী নারায়ণগঞ্জে। সেই সুবাধে নারায়ণগঞ্জ জেলার একজন প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের সাথে তার সখ্যতা রয়েছে বলে জানা যায়। সেই সংসদ সদস্যের মিথ্যা পরিচয় ব্যবহার করে তিনি বেশ কিছুদিন ধরে শাহবাগ ফুল বাজার ও আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে খারাপ আচরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে আসছিলো।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার সেই সংসদ সদস্যের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সাদেকুর রহমান সাদেক মোল্লা নামের কাউকে আমি চিনিনা। আমার সাথে সখ্যতার কথা বলে কিংবা আমার নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ যদি সাধারণ মানুষের সাথে খারাপ আচরণ বা অপরাধ করে তাহলে তাকে থানায় সোপর্দ করবেন। আমি কখনোই অপরাধ ও অপরাধীকে পছন্দ করিনি, ভবিষ্যতেও করবো না।
উল্লেখ্য, সাদেকুর রহমান সাদেক মোল্লা প্রায় দুই দশক আগে জীবিকার তাগিদে শাহবাগ এসেছিলেন। তখন সে অল্প টাকার পারিশ্রমিকে কাজ করতো বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। কিন্তু এখন তার রয়েছে বিপুল সম্পদ। পেয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ পদও।



