আন্তর্জাতিক

গ্লোবাল পাওয়ার হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে তুরস্ক: প্রেসিডেন্ট এরদোগান

পুনর্গঠিত বৈশ্বিক ব্যবস্থায় তুরস্ক অন্যতম প্রধান শক্তিকেন্দ্র (Power Hub) হতে যাচ্ছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। তার মতে, নীতিনিষ্ঠ পররাষ্ট্রনীতি এবং আন্তর্জাতিক সংকটে দৃঢ় অবস্থানের কারণেই তুরস্ক আজ বিশ্বমঞ্চে বিশেষ স্বীকৃতি পাচ্ছে।

তুরস্কের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ইয়েনি সাফাক-এর বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) তুর্কি উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী কনফেডারেশনের সপ্তম বিশেষ সাধারণ সভায় এরদোগান বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতি বর্তমানে সেই পথেই এগোচ্ছে যা তুরস্ক দীর্ঘসময় ধরে বলে আসছিল। তিনি উল্লেখ করেন: সিরিয়াসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটে তুরস্ক কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করেনি। স্বাধীন ও দৃঢ় অবস্থান দেশটিকে ‘ইতিহাস ও বিবেকের সঠিক পাশে’ দাঁড়িয়ে থাকার মর্যাদা দিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট এরদোগান ঘোষণা করেন যে, তুরস্ক এখন একটি ‘সম্পূর্ণ নতুন যাত্রায়’ প্রবেশ করছে। এই যাত্রার মূল লক্ষ্য হলো একটি ‘মহান ও শক্তিশালী তুরস্ক’ গড়ে তোলা, যার অর্জনগুলো বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত হবে।

দেশের ব্যবসায়ী নেতাদের মনোবল বাড়াতে এরদোগান কিছু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন:

হতাশাজনক অর্থনৈতিক পূর্বাভাস ও তথাকথিত ‘অন্ধকার দৃশ্যপট’ নিয়ে পড়ে না থাকতে তিনি ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানান। তিনি এই ধরনের নেতিবাচক প্রচারণাকে ‘অর্থনৈতিক ষড়যন্ত্রকারীদের’ কাজ হিসেবে অভিহিত করেন এবং তা উপেক্ষা করে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

প্রেসিডেন্ট এরদোগান বিশ্বাস করেন, তুরস্কের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা দেশটিকে আগামী দিনের বিশ্বব্যবস্থায় এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এরদোয়ানের বক্তব্য তুরস্কের ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। ইউক্রেন যুদ্ধ, দক্ষিণ ককেশাস, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় সক্রিয় কূটনীতির মাধ্যমে তুরস্ক নিজেকে একটি ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। পশ্চিমা আধিপত্যনির্ভর ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে একটি বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার ধারণাও তুলে ধরছেন এরদোগান।
এরদোগানের ভাষণে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে কৌশলগত স্বনির্ভরতা, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কূটনৈতিক মধ্যস্থতার ওপর জোর দেওয়ার বিষয়টি। একই সঙ্গে তিনি দেশীয় ব্যবসায়ী মহলে আস্থা ফেরাতে চান, যদিও দেশটি মুদ্রার অবমূল্যায়ন, ঋণচাপ ও মূল্যস্ফীতির মতো চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভিশন বাস্তবে কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক সামাল দেওয়ার সক্ষমতার ওপর।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button