নারীদের বন্দি করতে তালা কেনার টাকা নেই জামায়াতের

কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নারী অধিকার এবং দেশের উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন। তাঁর বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে হাস্যরস ও যুক্তি।
জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে নারীদের ঘরে বন্দি করে রাখা হবে—বিরোধীদের এমন দীর্ঘদিনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ডা. শফিকুর রহমান কিছুটা কৌতুকপূর্ণ স্বরে বলেন, বাংলাদেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। তারা আমাদের মা ও বোন। তাদের যদি ঘরে বন্দি করে রাখতে হয়, তবে দেশের কোটি কোটি ঘরের দরজায় লাগানোর জন্য যে পরিমাণ তালা কিনতে হবে, সেই পরিমাণ অর্থ জামায়াতের কাছে নেই। তিনি স্পষ্ট করেন যে, জামায়াত এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে নারী ও পুরুষ উভয়ের হাতেই মর্যাদাপূর্ণ কাজ থাকবে এবং যুবসমাজ তাদের শক্তি দিয়ে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেবে।
বিগত সরকারের আমলে জামায়াতে ইসলামীর ওপর চলা দমন-পীড়নের স্মৃতি চারণ করে তিনি বলেন, তাদের দলীয় নিবন্ধন কেড়ে নেওয়া থেকে শুরু করে নেতাদের ফাঁসি, জেল-জুলুম এবং ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এমনকি শেষ সময়ে দলটিকে নিষিদ্ধও করা হয়েছিল। তবে ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর জামায়াত কোনো প্রতিহিংসার পথে হাঁটেনি। তিনি দাবি করেন, তারা অন্যায়ভাবে কোনো মানুষের বিরুদ্ধে মামলা বা হয়রানি করেননি, বরং ক্ষমা ও সহাবস্থানের নীতি গ্রহণ করেছেন।
কুষ্টিয়ার কৃতি সন্তান এবং বুয়েটের ছাত্র শহীদ আবরার ফাহাদকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান তাকে ‘বিদ্রোহী বিপ্লবের নাম’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কলম ধরার কারণেই আবরারকে নির্মমভাবে জীবন দিতে হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে যে, দেশের তরুণ প্রজন্ম মহান আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে পরোয়া করে না এবং তারা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপসহীন।
জনসভায় কুষ্টিয়ার গড়াই ও পদ্মা নদীর দুরবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি অভিযোগ করেন, নদী খননের নামে প্রতিবছর যে বিশাল অংকের বাজেট বরাদ্দ করা হয়, তা দুর্নীতির কারণে প্রভাবশালী মহলের পকেটে চলে যায়। ফলে নদীগুলো মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে অথবা বর্ষাকালে ভাঙনের সৃষ্টি করছে। আল্লাহর দেওয়া এই প্রাকৃতিক নিয়ামতকে দুর্নীতির মাধ্যমে ধ্বংস করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।



