রাজার ছেলে রাজা হবে, এই সংস্কৃতি বদলাতে চাই: জামায়াত আমির

ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন। আজ শুক্রবার সকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “রাজার ছেলে রাজা আর মন্ত্রীর ছেলে মন্ত্রী হবে—এই প্রথা আমরা ভেঙে দিতে চাই।”
নতুন রাজনীতির অঙ্গীকার: ডা. শফিকুর রহমান অতীতের রাজনীতিকে ‘বস্তাপচা’ ও ‘ফ্যাসিবাদ সৃষ্টিকারী’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, গতানুগতিক এই রাজনীতি দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে, যা থেকে উত্তরণের জন্য দেশবাসীকে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর।
দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি সবাইকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “মাথা গরম না করে জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান করুন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা গুলির সামনে বুক পেতে দিয়েছিল, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রাখলে প্রতিহিংসার সুযোগ নেই।”
মা-বোনদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষের উচিত নিজেদের মা-বোনের মতো দেশের সকল নারীকে সম্মান করা।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াত আমির ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। তিনি ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীককে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। সমাবেশ শেষে তিনি ফেনীর তিনটি আসনের প্রার্থীদের হাতে নির্বাচনী প্রতীক তুলে দেন।
সমাবেশে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাসুম বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়তে জোটের প্রার্থীদের জয়ী করার আহ্বান জানান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুও বক্তব্য দেন। মঞ্জু বিএনপির নাম উল্লেখ করে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি রাশেদ প্রধান তার বক্তব্যে বর্তমান বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে বলেন, দলটি এখন তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।



