বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্ক ও মদ্যপানের দায়ে যুগলকে ১৪০ বার বেত্রাঘাত

ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে শরিয়া আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এক তরুণ-তরুণীকে প্রকাশ্যে ১৪০ বার বেত্রাঘাত করার ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ২৯ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) মদ্যপান এবং বিবাহবহির্ভূত শারীরিক সম্পর্কের দায়ে তাদের এই কঠোর সাজা প্রদান করা হয়। আচেহ প্রদেশের ইতিহাসে এটিই এক সেশনে সর্বোচ্চ সংখ্যক বেত্রাঘাতের রেকর্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, শাস্তি চলাকালীন যন্ত্রণায় ২১ বছর বয়সী ওই তরুণী অঝোরে কাঁদছিলেন। তিনজন নারী কর্মকর্তা পর্যায়ক্রমে তাকে আঘাত করতে থাকেন। একপর্যায়ে যন্ত্রণার মাত্রা সহ্য করতে না পেরে তরুণী মঞ্চেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। সেখানে উপস্থিত কর্মকর্তাদের মধ্যে এ ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পরে নারী পুলিশ সদস্যরা তাকে ধরাধরি করে চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেন। স্থানীয় আইন অনুযায়ী, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জন্য ১০০টি এবং মদ্যপানের জন্য ৪০টি বেত্রাঘাতের বিধান রয়েছে।
একই দিনে ওই যুগলের পাশাপাশি আরও চারজনকে বিভিন্ন অপরাধে সাজা দেওয়া হয়। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে আচেহ-র নিজস্ব ইসলামিক পুলিশ বাহিনীর একজন সদস্যও ছিলেন, যাকে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়ায় ২৩ বার বেত্রাঘাত করা হয়। পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই সদস্যকে শিগগিরই চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে।
ইন্দোনেশিয়া একটি মুসলিম প্রধান দেশ হলেও আচেহ একমাত্র প্রদেশ যেখানে স্বতন্ত্র স্বায়ত্তশাসনের অধীনে কঠোরভাবে শারিয়া আইন কার্যকর রয়েছে। তবে প্রকাশ্যে এই ধরনের শারীরিক শাস্তি প্রদানের পদ্ধতিকে দীর্ঘদিন ধরেই ‘নিষ্ঠুর ও অমানবিক’ বলে সমালোচনা করে আসছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা মনে করেন, এ ধরনের শাস্তির প্রক্রিয়াগুলো যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রিত নয় এবং সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় পুনর্বাসনের ব্যবস্থারও অভাব রয়েছে।



