ক্ষমতায় এলে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে নিয়েই জামায়াত আমিরের দেশ গড়ার অঙ্গীকার

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় ঐক্যের বার্তা দিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনে জয়ী হলে শুধু সমর্থকদের নয়, পরাজিতদেরও সঙ্গে নিয়ে দেশ গঠনের পথে এগোবে জামায়াত।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। তার বক্তব্যে উঠে আসে, জামায়াত এমন একটি রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখছে, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের জীবন, সম্পদ ও সম্মান নিরাপদ থাকবে।
আগামী নির্বাচনকে তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, ২০২৪ সালে জনগণ রাজপথে যে গণআন্দোলনের প্রকাশ ঘটিয়েছিল, এবার সেই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হবে ব্যালটের মাধ্যমে।
বাংলাদেশে কে সরকার গঠন করবে, সেই সিদ্ধান্ত একমাত্র এ দেশের জনগণের, এ কথা পুনর্ব্যক্ত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কোনো বাহ্যিক শক্তি যদি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে, তবে জনগণই তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, জামায়াত সরকার গঠন করলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনে কেউ বাধা দিতে পারবে না।
জনসভায় আলাদা বক্তব্যে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, তিনি চৌদ্দগ্রাম উপজেলাকে কোনো দলীয় চশমায় দেখেন না। তার পরিচয়, তিনি সবার ‘তাহের ভাই’।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে এবং যে কেউ যে কোনো দল করার অধিকার রাখে। তবে মানুষ হিসেবে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জনসভায় উপস্থিত সবাই যে জামায়াতের সমর্থক, তা নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। কেউ বিএনপি করেন, কেউ অন্য দল করেন, কিন্তু সবাই একই মঞ্চে দাঁড়িয়েছেন, কারণ সম্পর্কটা রাজনৈতিক নয়, ভ্রাতৃত্বের।
এলাকার সংসদ সদস্য কোনো একটি দলের প্রতিনিধি নন, এমন মন্তব্য করে তাহের বলেন, দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে যিনি সব মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারবেন, সংসদে ভোট দেওয়া উচিত তাকেই। দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে চৌদ্দগ্রামের মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করার সক্ষমতা তার রয়েছে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



