ঢাবিতে প্রথমবারের মতো হচ্ছে ‘হিজাব র্যালি’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো পালিত হলো আন্তর্জাতিক হিজাব দিবস। এই উপলক্ষ্যে ক্যাম্পাসে আয়োজিত হয় একটি বিশেষ ‘হিজাব র্যালি’।
শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে টিএসসি ও রাসেল টাওয়ার প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের সামনে এসে শেষ হয়। ‘প্রোটেস্ট এগেইনস্ট হিজাবোফোবিয়া ইন ডিইউ’ নামক একটি সংগঠনের ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
র্যালি পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শিক্ষার্থীরা হিজাব পরিহিত নারীদের অধিকার ও পোশাকের স্বাধীনতা নিয়ে নিজেদের মনের কথা তুলে ধরেন। বক্তারা আক্ষেপ করে বলেন যে, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পোশাকের স্বাধীনতার কথা উচ্চকণ্ঠে বলা হলেও হিজাব কিংবা নিকাবের ক্ষেত্রে সেই সম্মান ও উদারতা অনেক সময় দেখা যায় না। তারা স্পষ্টভাবে জানান, কোনো নারীকে তার পোশাক দিয়ে নয়, বরং তার কাজ এবং যোগ্যতা দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত।
সমাবেশে শিক্ষার্থী মিশকাতুল জান্নাত ইতিহাসের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর যেভাবে বিভিন্ন প্রোপাগান্ডা ও ইতিহাস বিকৃতি ঘটছে, তাতে নিজেদের ঐতিহ্যের শিকড় না জানলে হিজাব দিবসের মতো আয়োজনগুলো একসময় হারিয়ে যেতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত কয়েক বছর ধরে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ এই দিবসটি পালন করে আসলেও দেশব্যাপী এটি এখনো সেভাবে পরিচিতি পায়নি।
অন্যদিকে, ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে ছালমা সামাজিক সংস্কার ভাঙার আহ্বান জানিয়ে বলেন, হিজাব বা নিকাব কেবল ঘরে বসে থাকার বা রান্নাবান্না করার প্রতীক নয়। জুলাই আন্দোলনে হিজাবধারী নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পর্দার আড়ালে থেকেও নিজ যোগ্যতায় দেশের উন্নয়নে অংশ নেওয়া সম্ভব। তিনি নারীদের নিজেদের অধিকার আদায়ে আরও সচেতন ও অগ্রগামী হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অনলাইন প্রচারণার মাধ্যমে র্যালিতে জনসমাগম বাড়াতে ভূমিকা রাখায় পাঁচজন শিক্ষার্থীকে বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।



