শহীদ শিশু আনাছ ও ওয়াসিমকে নিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে যা বললেন সালাহউদ্দিন

পেকুয়ায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের স্মরণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি শহীদ শিশু আনাছ এবং নিজের সন্তানতুল্য শহীদ ওয়াসিম আকরামের সাহসিকতার গল্প তুলে ধরেন।
বক্তব্যে তিনি স্মরণ করেন শিশু আনাছকে, যে রাজপথে যাওয়ার সময় তার মাকে বলেছিল— “মা, আমার সঙ্গীরা রক্ত দিচ্ছে, জীবন দিচ্ছে; আমি ঘরে বসে থাকতে পারব না। যদি ফিরে না আসি, তবে তুমি আমাকে নিয়ে গর্ব করো।”
এরপর তিনি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে স্মরণ করেন শহীদ ওয়াসিম আকরামকে। নিজের নির্বাসিত জীবনের স্মৃতি হাতড়ে তিনি বলেন, “শহীদ হওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ওয়াসিম শিলংয়ে আমাকে দেখতে গিয়েছিল। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম কেন এত টাকা খরচ করে আমাকে দেখতে এলো? সে শুধু বলেছিল, আমাকে দেখার খুব ইচ্ছে ছিল তার। আমার সঙ্গে তোলা সেই ছবিই আজ তার ফেসবুক প্রোফাইলে স্মৃতি হয়ে আছে, যা তার মৃত্যুর পর ভাইরাল হয়ে যায়।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কৃতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি অনুপ্রেরণামূলক কিছু দিকনির্দেশনা দেন, বর্তমান প্রজন্মই আগামীর বাংলাদেশের কাণ্ডারি। শহীদদের রক্তে অর্জিত এই স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করার দায়িত্ব এখন তরুণদের কাঁধে।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে আসা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা এখন তারেক রহমানের হাত হয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে অর্পিত হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের কেবল স্বপ্ন দেখলে চলবে না, বরং সারা বিশ্বের সাথে পাল্লা দিয়ে একটি আধুনিক, জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তি-নির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের চড়াই-উতরাই স্মরণ করে বলেন, তিনি সারাজীবন মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করেছেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে গুম হওয়ার ভয়াবহ স্মৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন— “আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুম করা হয়েছিল। কিন্তু দেশের মানুষের দোয়া আর আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি আজ বেঁচে আছি। আমি কোনো ‘মৃত্যুঞ্জয়ী বীর’ নই, আমি কেবল দেশের একজন সেবক।”



