আন্তর্জাতিক

ভারতীয় ও সাপের সঙ্গে দেখা হলে আগে ভারতীয়কে মা/রো: নরওয়ের কূটনীতিক

জেফরি এপস্টেইন মামলার অতি সম্প্রতি প্রকাশিত ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথিপত্র বিশ্বজুড়ে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এই তথ্যের পাহাড় থেকে বেরিয়ে এসেছে নরওয়ের প্রভাবশালী কূটনীতিক টেরিয়ে রোড-লারসেনের এক চরম বর্ণবাদী ও অবমাননাকর রূপ, যা বিশেষ করে ভারতীয়দের মনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর। প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, জেফরি এপস্টেইন জনৈক ভারতীয় রাজনীতিকের একটি ই-মেইল রোড-লারসেনকে ফরোয়ার্ড করেছিলেন। তার জবাবে লারসেন একটি অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ প্রবাদ উল্লেখ করে লেখেন—যদি কখনও একজন ভারতীয় এবং একটি সাপের মুখোমুখি হতে হয়, তবে যেন আগে ভারতীয়টিকেই মারা হয়।

শান্তির দূত হিসেবে পরিচিত একজন উচ্চপদস্থ কূটনীতিকের এমন সহিংস ও বিকৃত মন্তব্য জনসমক্ষে আসতেই ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। নেটিজেনদের মতে, এই মন্তব্য কেবল ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নয়, বরং প্রভাবশালী পশ্চিমা মহলের একাংশের মনে ভারতীয়দের প্রতি লুকিয়ে থাকা গভীর ঘৃণারই বহিঃপ্রকাশ।

টেরিয়ে রোড-লারসেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন। জাতিসংঘের সাবেক দূত এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউট’-এর সাবেক এই প্রেসিডেন্ট ২০২০ সালে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন, যখন শিশু যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়।

উল্লেখ্য, মার্কিন অর্থদাতা জেফরি এপস্টেইন নাবালিকা পাচার ও যৌন নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত হয়ে ২০১৯ সালে জেলখানায় বন্দি অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুর পর থেকে পর্যায়ক্রমে প্রকাশিত নথিপত্রগুলো বিশ্বের বাঘা বাঘা নেতা, ব্যবসায়ী ও বুদ্ধিজীবীদের অন্ধকার জগতের মুখোশ খুলে দিচ্ছে। নথিপত্রের এই বিশাল ভাণ্ডার থেকে আগামীতে আরও অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির অপ্রীতিকর তথ্য সামনে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button