দ্য ডিপ্লোম্যাটের প্রতিবেদন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে করা এক বিশ্লেষণে তারেক রহমানকে ‘সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদ সাময়িকী দ্য ডিপ্লোম্যাট।
‘অ্যান ইন্টারভিউ উইথ তারেক রহমান—লাইকলি নেক্সট প্রাইম মিনিস্টার’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দক্ষিণ এশীয় দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আসতে পারেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ব্লুমবার্গ, টাইম এবং দ্য ইকোনমিস্টের মতো বিশ্বসেরা সংবাদমাধ্যমগুলো তাকে আগামীর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণী সাময়িকী ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনেও এই ধারার প্রতিফলন ঘটেছে, যেখানে বিভিন্ন জনমত জরিপের বরাতে তারেক রহমানের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার চিত্র ফুটে উঠেছে।
জনমত জরিপগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বর্তমানে বিএনপির প্রতি জনসমর্থন প্রায় ৭০ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। ব্যক্তিগতভাবে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান ৪৭ শতাংশের বেশি মানুষ। এই জনপ্রিয়তার পেছনে বড় ভূমিকা পালন করছে দেশের তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’ ভোটাররা। দ্য ডিপ্লোম্যাটের পক্ষ থেকে সিরাজগঞ্জ থেকে টাঙ্গাইল যাওয়ার পথে বাসে বসে নেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান নিজেই এই তরুণ শক্তির গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন।
তিনি জানান, বিএনপি এখন কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং তরুণদের চিন্তাধারার সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্ল্যাটফর্ম। ‘দ্য প্ল্যান’ নামক কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি সরাসরি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন, শুনছেন তাদের ভাবনা ও আগামীর স্বপ্ন। আইটি খাত, কারিগরি শিক্ষা এবং আধুনিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিকেই তিনি তরুণদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মূল সেতু হিসেবে মনে করেন।
তারেক রহমানের আগামীর পররাষ্ট্রনীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। গত দেড় দশকের ভারতকেন্দ্রিক কূটনীতির বিপরীতে তিনি ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘জাতীয় স্বার্থই সর্বাগ্রে’—এমন একটি শক্তিশালী নীতি গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো নির্দিষ্ট শক্তির প্রতি ঝুঁকে না থেকে বরং পারস্পরিক সম্মান ও অর্থনৈতিক লাভের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতসহ বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে বাংলাদেশ। দেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাই হবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থায় তিনি ‘৩১ দফা’ সংস্কার প্রস্তাবনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তারেক রহমানের মতে, মানুষের দৈনন্দিন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভয়হীন এক সামাজিক পরিবেশ তৈরি করা বিএনপির অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।
বিশেষ করে পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ড এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নকে তিনি তাঁর অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে রেখেছেন। নতুন কোনো রাজনৈতিক দলের উত্থানকে তিনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে না দেখে গণতান্ত্রিক সুস্থ প্রতিযোগিতা হিসেবেই বিবেচনা করছেন।
সব মিলিয়ে, তারেক রহমান কেবল একজন রাজনৈতিক নেতাই নন, বরং আধুনিক ও উন্নত এক বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে নিজেকে জনগণের সামনে উপস্থাপন করছেন। জনগণের ক্ষমতায়ন এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন, তা-ই এখন তাঁকে দেশের প্রধান রাজনৈতিক আকর্ষণে পরিণত করেছে।



