যত দ্রুত সম্ভব অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব হস্তান্তর করবে: শফিকুল

যত দ্রুত সম্ভব অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব হস্তান্তর করবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে গঠিত পরবর্তী সরকারের কার্যক্রমে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা থাকবে না। নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করলেই তাদের প্রতিনিধির কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।
প্রেস সচিব বলেন, সংসদ সদস্যদের শপথের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। তার ভাষায়, এই দায়িত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়া তিন দিনের মধ্যেই শেষ হতে পারে। ১৫ বা ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই এটি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারির বেশি সময় লাগবে না বলেই তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে এক সময় যেসব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটত, এখন তেমন কোনো ঘটনা আর ঘটছে না। অতীতে যারা এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার করা হচ্ছে। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম বড় দায়িত্ব ছিল নির্বাচন আয়োজনের জন্য দেশকে প্রস্তুত করা। রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কারের লক্ষ্যে ‘জুলাই চার্টার’ প্রণয়ন করা হয়েছে, যা বর্তমানে গণভোটে উপস্থাপিত হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ এর ফলাফল জানাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শফিকুল আলম বলেন, আগে দেশের রাজনীতি ও সংস্কৃতি কয়েকজন ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন সেখানে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে উপদেষ্টারা নিজেদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করবেন বলেও জানান তিনি।
নির্বাচনী পরিবেশ প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, এখন পর্যন্ত বড় কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। উৎসবমুখর পরিবেশে সারা দেশে নির্বাচনী প্রচারণা চলছে। বড় রাজনৈতিক দলগুলো পরিণত আচরণ করছে এবং তাদের নেতারা বিভিন্ন এলাকায় জনসভা ও বক্তব্য দিচ্ছেন। তার মতে, দেশের মানুষ একটি ভালো ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে।
নির্বাচনী সহিংসতার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, পুলিশের তথ্য অনুযায়ী ২০১৪ সালের নির্বাচনে ১১৫ জন, ২০১৮ সালে ২২ জন এবং ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে ৬ জন নিহত হয়েছিলেন। অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় এবারের পরিবেশ অনেক বেশি শান্তিপূর্ণ। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি নির্বাচনী সময়ে এখন পর্যন্ত সহিংসতায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।



