সাতক্ষীরার ৪টি আসন জামায়াতের আমিরকে ‘উপহার’ দেওয়ার আহ্বান সাদিক কায়েমের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, বিগত সময়ে সাতক্ষীরায় চরম জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে। আগামী নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি আসন জামায়াতের নেতৃত্বকে উপহার দিতে হবে, বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলামের নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
সাদিক কায়েম বলেন, জামায়াতের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ হবে, যেখানে হিংসা, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির কোনো স্থান থাকবে না। ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে ৫৪ বছরের মাফিয়া শাসন ও অনিয়মের অবসান হবে। তিনি প্রশ্ন তুলেন, একটি রাজনৈতিক দল তাদের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের কারণে শতাধিক নেতাকর্মী হারিয়েছে—তারা কীভাবে দেশের মানুষকে নিরাপত্তা দিতে পারবে? কিন্তু জামায়াত জুলাই পরবর্তী সময়ে মানুষের পাশে থেকে নিরাপত্তার হাত বাড়িয়েছে। ভবিষ্যতে জামায়াত সরকার গঠিত হলে মা-বোনেরা নিরাপদে চলাচল করতে পারবে এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে, বলেন তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি শহীদ শরীফ ওসমান হাদির বিচারের দাবিতে উপস্থিত জনতাকে সঙ্গে নিয়ে স্লোগান দেন।
শ্যামনগরকে উপকূলীয় দুর্যোগপ্রবণ এলাকা উল্লেখ করে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, এই অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। শ্যামনগরের মানুষের প্রধান দাবি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং উপকূল সুরক্ষা নিশ্চিত করা। নির্বাচিত হলে উপকূলে টেকসই বেড়িবাঁধ, নদীভাঙন প্রতিরোধ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আধুনিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া রেললাইন স্থাপন, সুন্দরবনকে পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর, রাস্তাঘাট সংস্কার, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করে শ্যামনগরকে মডেল উপজেলায় পরিণত করা হবে বলে জানান তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল বলেন, দেশের মানুষ আজ পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে। জনগণ শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চাইছে। আগামী নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ, দখলদার ও চাঁদাবাজদের প্রত্যাখ্যান করা হবে।
শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে জনসভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় জামায়ত নেতা ড. খলিলুর রহমান মাদানী, জকসু এজিএস মাসুদ রানা, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী বাবু কৃষ্ণ নন্দী, ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার সম্পাদক মো. আমিরুল ইসলাম, সাবেক রাবি শিবির সভাপতি আব্দুর রহিম, জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুলসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।



