রাজনীতি

নির্বাচিত হলে ঢাকা-১১ আসনের ভূমিদস্যু নির্মূলের প্রতিশ্রুতি নাহিদ ইসলামের

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–১১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী ও দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, এই আসনের উন্নয়ন না হওয়ার পেছনে প্রধান বাধা রাজনৈতিক। তাঁর মতে, সেই রাজনৈতিক সমস্যার মূল হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ভূমিদস্যুতা।

রোববার ঢাকার মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত এই জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, গত তিন দশক ধরে এই এলাকার শত শত মানুষের জমি, খাসজমি ও জলাশয় দখল করে ভরাট করা হয়েছে। এতে অসংখ্য পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, যারা রাজনীতির মাঠে সক্রিয় ছিলেন, তারাই সরাসরি ভূমিদস্যুতা করেছেন অথবা দখলদারদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন। আগস্টের আগে যেসব দল এই এলাকার প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে পরিচিত ছিল, তাদের স্থানীয় নেতারাই ভাগ–বাটোয়ারার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ভূমি দখল চালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর একজন চলে গেছেন, আর যিনি দখলদারি ও চাঁদাবাজিতে জড়িত ছিলেন, তিনি তাঁর জায়গা নিয়েছেন। এই ধরনের ‘এক্সচেঞ্জ’ রাজনীতির মাধ্যমেই বারবার জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করা হয়েছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের সামনে ভূমিদস্যু, দখলদার, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও ঋণখেলাপিদের পরাজিত করার সুযোগ এসেছে। নির্বাচিত হলে ঢাকা–১১ আসন থেকে ভূমিদস্যুদের সিন্ডিকেট চিরতরে নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার কথাও বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি বলেন, তিনি কোনো জাতীয় ইস্যু নিয়ে কথা বলতে আসেননি, বরং এই এলাকার সন্তান হিসেবে এলাকার মানুষের বাস্তব সমস্যার কথা তুলে ধরতে এসেছেন। নিজের শৈশবের কথা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, তাঁর জন্ম বেরাইদে এবং বাড্ডা–রামপুরা এলাকায় তাঁর বড় হয়ে ওঠা। রাজধানীর এত কাছে থেকেও বাড্ডা–ভাটারা এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, এলাকাটির ভেতরের চিত্র দেখলে অনেক সময় মনে হয় এটি ঢাকা নয়, বরং কোনো মফস্বল অঞ্চল। তবে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় বাড্ডা–রামপুরা ছিল আন্দোলন ও প্রতিরোধের অন্যতম কেন্দ্র।

ঢাকা–১১ আসনের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার বলে মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সুযোগ পেলে এই এলাকার মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। অনেকেই জীবন দিয়েছেন, অনেকে আহত হয়েছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস টেনে বলেন, ১৯৭১ সালেও বাড্ডা, বেরাইদ ও আশপাশের এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের সক্রিয় অবস্থান ছিল।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি কয়েক দিন এই আসনের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন এবং ঢাকা–১১ তাঁকে আশ্রয় দিয়েছিল। জীবনের ২৮ বছরও এই এলাকা তাঁকে আশ্রয় দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন এই এলাকার মানুষের প্রতি তাঁর ঋণ শোধ করতে চান।

এলাকার নাগরিক সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকা–১১ আসনে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের বসবাস থাকলেও নাগরিক সুবিধা অত্যন্ত সীমিত। পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নেই, সরকারি স্কুল ও হাসপাতালের অভাব রয়েছে। পুরো আসনে কোনো সরকারি হাসপাতাল নেই এবং একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ও নেই। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে মাত্র ১৫টি, ফলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রায় পুরোপুরি বেসরকারি খাতনির্ভর।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ভাটারা–বাড্ডা এলাকার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ইনফরমাল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং শিক্ষিত বেকারের হার প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ।

জলাবদ্ধতার চিত্র তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ এলাকায় পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা রয়েছে। রামপুরা খাল, শাহজাদপুর খাল ও বালু নদী দখল ও ভরাটের কারণে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

শেষে নাহিদ ইসলাম বলেন, ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য শুধু ঢাকা–১১ নয়, সারা দেশেই বিজয়ী হবে বলে তারা আশাবাদী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক শক্তি দেশকে বিপদের দিকে ঠেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, সেই পরিকল্পনা পরাজিত করতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশকে দখলদারমুক্ত, আধিপত্যবাদমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button