বাংলাদেশ

জার্সি পরে হাসনাতের শপথগ্রহণ ও সংসদের ‘ড্রেসকোড’ নিয়ে আলোচনা

জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি হিসেবে শপথ গ্রহণের দিন স্পোর্টস জার্সি পরায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা হয়েছে। অনেকের মতে, সংসদে এমন পোশাক পরা ‘অপেশাদারি ও অসম্মানজনক’, অন্যদিকে সমর্থকরা বলেন এটি জনগণের সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ।

হাসনাতের জার্সির সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো এবং ‘ইংলিশ’ লেখা, পেছনে তার নাম ‘হাসনাত’ ও নম্বর ১০ লেখা রয়েছে। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে জয়ী হন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির শাপলা কলি প্রতীকে অংশ নেন।

বিশ্লেষকরা বলেন, বাংলাদেশের সংসদে আনুষ্ঠানিক ড্রেসকোড নেই, তবে রেওয়াজ হিসেবে সাধারণত এমপিরা গ্রহণযোগ্য পোশাক পরেন। সংসদ বিষয়ক গবেষক নিজামউদ্দিন আহমেদ বলেন, “জার্সি পরা ঠিক হয়নি, তবে এটা জনগণের বিপ্লবী চেতনা দেখানোর উদ্দেশ্যও হতে পারে।”

লেখক ও বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন, হাসনাতের জার্সি পরাটা সম্ভবত ‘অ্যাটেনশন ড্র করার উপায়’, জনগণের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

পুরনো নজিরও রয়েছে। ১৯৭৩ সালে সংসদে মকিম হোসাইন হাওলাদার লুঙ্গি পরেই উপস্থিত ছিলেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ-র কথায়, প্রথম সংসদে একজন এমপি রিকশা নিয়ে সংসদে গিয়েছিলেন, তখন তাকে গাড়ি দেওয়া হয়েছিল।

বিশ্বের অন্যান্য দেশে সংসদে স্পষ্ট ড্রেসকোড আছে। যুক্তরাজ্যে পুরুষদের জন্য স্যুট ও টাই, নারীদের জন্য ফরমাল পোশাক বাধ্যতামূলক। অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সংসদেও ফরমাল পোশাক প্রয়োজন, স্পোর্টসওয়্যার বা ক্যাজুয়াল পোশাক অনুমোদিত নয়।

অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী পোশাক কিছু দেশে ফরমাল হিসেবে গণ্য করা হয়। যেমন, দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলার ‘মাদিবা স্যুট’, ভারতের ‘নেহরু কলার’, আফ্রিকার জাম্বিয়ার ‘কাউন্ডা স্যুট’—এগুলো রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক।

এ থেকে স্পষ্ট হয়, সংসদে পোশাকের সঙ্গে সময়, রাজনীতি ও জাতীয় পরিচয়ও গভীরভাবে যুক্ত।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button