বাংলাদেশ

মানবিক ডিসি জাহিদের স্পর্শে বদলে গেল দুই প্রতিবন্ধীর জীবন

দ্বারে দ্বারে ঘুরে শেষমেশ মানবিক ডিসি জাহিদের কাছে—মিলল স্বাধীনতার চাকা।

চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার চরন্দ্বীপ গ্রামের মো. মফিজ ও হালিমা বেগম দম্পতির সন্তান মুহাম্মদ ইকবাল জন্মের পর থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছেন। নিজের ইচ্ছা থাকলেও অন্যের সহায়তা ছাড়া তিনি এক কদমও এগোতে পারেন না। ছোট্ট একটি হুইলচেয়ারের আশায় দিনের পর দিন দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন তিনি। আশ্বাস মিলেছে অনেক, কিন্তু মেলেনি বাস্তব সহায়তা।
আজ সোমবার ( ২৩ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বোয়ালখালী সফরে আসবেন—এ খবর পেয়ে বুকভরা আশা নিয়ে একটি লিখিত আবেদন হাতে তার সামনে হাজির হন ইকবাল।
সারাদেশে মানবিক কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত জেলা প্রশাসক তার কথা মন দিয়ে শোনেন। ইকবালের হাত ধরে খোঁজ নেন তার শারীরিক অবস্থার। সেখানেই তাকে একটি হুইলচেয়ার উপহার দেন তিনি। হুইলচেয়ার পেয়ে আবেগাপ্লুত ইকবাল বলেন, “ডিসি স্যার আমার কথা শুনেছেন, পাশে দাঁড়িয়েছেন। আজ আমি নিজের মতো চলাফেরা করতে পারব—এটাই আমার কাছে অনেক বড় পাওয়া।”WhatsApp Image 2026 02 24 at 4.58.25 AM 1

একই উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকার আব্দুল হামিদ মাস্টারের বাড়ির বাসিন্দা মাহাবুল আলম ও সাজু আক্তার দম্পতির ছেলে মো. আব্বাসের জীবনও একই সংগ্রামের গল্প। জন্মের পর থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী আব্বাস প্রতিদিনের ন্যূনতম প্রয়োজন মেটাতেও অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
জেলা প্রশাসকের কাছে একটি হুইলচেয়ারের আবেদন নিয়ে তিনিও হাজির হন। জেলার অভিভাবক তাকেও নিরাশ করেননি। আব্বাসের হাতেও তুলে দেন একটি হুইলচেয়ার।
কৃতজ্ঞ কণ্ঠে আব্বাস বলেন, “প্রস্রাব-পায়খানায় যেতেও ভাই-বোনের সাহায্য লাগে। আজ এই হুইলচেয়ার পেয়ে মনে হচ্ছে, আমিও কিছুটা স্বাধীন হলাম। এখন আর সবসময় কাউকে ডাকতে হবে না।”
দুই তরুণের চোখের সেই স্বস্তি ও হাসিই যেন প্রমাণ করে—কখনও কখনও একটি ছোট সহায়তাই হয়ে ওঠে জীবনের বড়।

নিজস্ব প্রতিবেদক।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button